সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

সেপ্টেম্বরেই আসছে প্রথমটি: নতুন দুই জাহাজে ১৫০ কোটি টাকা বাড়তি আয়ের আশা বিএসসির

বিএসসির বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন দুই জাহাজ, আসছে আরও তিনটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন পর আবারও বহর সম্প্রসারণে মনোযোগ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি নতুন জাহাজের প্রথমটি আগামী সেপ্টেম্বরে এবং দ্বিতীয়টি নভেম্বরে বিএসসির বহরে যুক্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে আরও তিনটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সংস্থাটি।

বিএসসি জানায়, ৯৩৬ কোটি টাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি বাল্ক জাহাজ কেনা হচ্ছে, যা বর্তমানে চীনের একটি শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, নির্মাণাধীন জাহাজ কেনার কারণে এগুলো দ্রুত বহরে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যেখানে নতুন করে বানাতে গেলে তিন বছরের বেশি সময় লাগত। ২২ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চীনে জাহাজ দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।

বর্তমানে পাঁচটি জাহাজ থাকা বিএসসির বহর নতুন দুটি যুক্ত হলে সাতে উন্নীত হবে। সংস্থাটি আশা করছে, নতুন জাহাজ দুটি থেকে বছরে বাড়তি ১৫০ কোটি টাকা আয় হবে এবং ১৫০ জন নাবিকের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এই সম্প্রসারণের পরও বেসরকারি খাতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকবে বিএসসি। ১৯৭২ সালে ‘এমভি বাংলার দূত’ দিয়ে যাত্রা শুরু করা বিএসসির বহরে একসময় ৩৮টি জাহাজ থাকলেও পরে তা কমতে থাকে।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বর্তমানে ১৬টি কোম্পানির ৯৫টি জাহাজ রয়েছে। শীর্ষস্থানে থাকা কেএসআরএম গ্রুপের একাই রয়েছে ২৮টি জাহাজ, আর মেঘনা গ্রুপের রয়েছে ২৫টি। সংস্থা হিসেবে বিএসসির অবস্থান ষষ্ঠ।

সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পে শীর্ষস্থানে থাকা কেএসআরএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেহেরুল করিম বলেন, “জাহাজের বহর বেশি হলে দেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান, নিজেদের পণ্য পরিবহন করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বিদেশি পণ্য পরিবহন করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়—সবকিছুরই সুযোগ বাড়ে। বিএসসির এই উদ্যোগ সেই সুযোগ আরও বাড়াবে।”

পাঠকপ্রিয়