সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন-ভেজাল খাবারে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে অসংক্রামক ব্যাধি

দেশে ৭০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক ব্যাধি, ৮০ ভাগই স্ট্রোকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক ব্যাধি বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং এখন দেশের মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই ঘটছে এসব রোগে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ মৃত্যুই হচ্ছে স্ট্রোকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ভেজাল খাদ্য ও পরিবেশ দূষণের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই মহামারি ঠেকাতে তারা দেশব্যাপী সমন্বিত প্রতিরোধ কার্যক্রম ও ব্যাপক জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক যৌথ গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় এর কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত চিনি-লবণ গ্রহণ, বায়ুদূষণ, ভেজাল খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই রোগী বৃদ্ধির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের হাসপাতালগুলো। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতালের ৯০ ভাগ রোগীই অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম দেশে স্ট্রোকে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ উল্লেখ করে বলেন, “শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে, যা একটি অশনিসংকেত।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয়বহুল চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, “ভেজাল খাদ্য, পরিবেশ ও ফাস্ট ফুডের কারণে সব বয়সী মানুষ মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন হলেই এসব রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ সম্ভব।”

আইসিডিডিআরবির সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনসহ সবাইকে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।”

তথ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুল, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মোসতাক হোসেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান প্রধান ডা. আয়শা আক্তার, গ্যাসট্রো লিভার ইনস্টিটিউটের ডা. এনামুল করিম এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. সফি আহম্মেদ মোয়াজ-সহ অন্য বিশেষজ্ঞরাও রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

পাঠকপ্রিয়