সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৩ বার শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ, ফিরল ১৫ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ, চেক জালিয়াতি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তিনবার শাস্তি পাওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তার সব দণ্ড মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। শাস্তির কারণে কেটে নেওয়া প্রায় ১৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তাকে সহকারী সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বোর্ডের আইন উপদেষ্টা ও সচিবের আপত্তি উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ ‘বিশেষ ক্ষমতাবলে’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে বোর্ডের তৎকালীন সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ওসমান গণির শাস্তি প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সই করতে আপত্তি জানালে বোর্ডের সহকারী কর্মকর্তা বিমল কান্তি চাকমা চেয়ারম্যানের নির্দেশে আদেশে সই করেন।

বোর্ডের সচিব এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ মনে করেন, এই শাস্তি প্রত্যাহারে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, তাই তিনি আদেশে সই করেননি।

বোর্ডের নথি অনুযায়ী, ওসমান গণির বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দিয়ে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা ২০০৫ সালের এক তদন্তে প্রমাণিত হয়। একই সময়ে এক শিক্ষকের চেক জালিয়াতির অভিযোগে তিনি প্রথমবার সাময়িক বরখাস্ত হন। ২০১৫ সালে হাইকোর্টের ভুয়া আদেশ দেখিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তিনি দ্বিতীয়বার বরখাস্ত হন। সর্বশেষ ২০২২ সালে বোর্ডের ইফতার মাহফিলে মারামারির কারণে তৃতীয়বার বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি।

বোর্ডের ঢাকাভিত্তিক আইন উপদেষ্টা আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম মতামত দিয়েছিলেন যে, বোর্ডের চেয়ারম্যানের এই শাস্তি প্রত্যাহার করার এখতিয়ার নেই, এটি কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয় করতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, এই মতামত উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান চট্টগ্রামে নুরুল আমিন নামে নতুন একজন আইন উপদেষ্টা নিয়োগ দেন, যিনি পরে শাস্তি প্রত্যাহারের পক্ষে মতামত দেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম বোর্ড চেয়ারম্যান ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের প্রতিবেদনে কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল। সব শাখাপ্রধানের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

অন্যদিকে, তিনবার বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সহকারী সচিব ওসমান গণি বলেন, “বোর্ডের একজন কর্মকর্তা আমাকে ওপরে উঠতে না দেওয়ার জন্য অভিযোগগুলো করছিলেন।”

পাঠকপ্রিয়