সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

দুদকের ‘ঘরেই’ দুর্নীতি, ১৮ বছরে ২৪৪ কর্মকর্তার শাস্তি

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারাই যখন দুর্নীতিতে জড়াচ্ছেন, তখন তা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। গত প্রায় ১৮ বছরে ঘুষ গ্রহণ ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজেদের ২৪৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে খোদ দুদকই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুদকের ভেতরকার এই দুর্নীতি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা না গেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাবে। তাদের মতে, শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, অভিযুক্তদের ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের কমিশনে রেখে বা শুধু সাময়িক বরখাস্ত করে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। তাদের অবশ্যই বিচারের জন্য আদালতে পাঠাতে হবে।”

তার মতে, নিজেদের কর্মকর্তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দুদক জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।

সম্প্রতি দুদকের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সংস্থার পরিচালক খান মো. মিজানুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে এক দুর্নীতি মামলার আসামির কাছ থেকে চিকিৎসার খরচ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম এবং উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারকে দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়।

মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ ও এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা এবং এসেনশিয়াল ড্রাগসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ২৪৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শাস্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকিদের বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি বা বেতন কমানোর মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুদকের পরিচালক এনামুল বসির এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বরখাস্ত হন এবং ফৌজদারি মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে দুদকের উপ-পরিচালক সাব্বির আহমেদকে ১০ লাখ টাকা ঘুষসহ র‍্যাব হাতে-নাতে আটক করেছিল।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলাম বলেন, কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়ালে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। তিনি জানান, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও সেটি এখন ‘অকার্যকর’।

এসব বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

দুদকের ‘ঘরেই’ দুর্নীতি, ১৮ বছরে ২৪৪ কর্মকর্তার শাস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারাই যখন দুর্নীতিতে জড়াচ্ছেন, তখন তা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। গত প্রায় ১৮ বছরে ঘুষ গ্রহণ ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজেদের ২৪৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে খোদ দুদকই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুদকের ভেতরকার এই দুর্নীতি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা না গেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাবে। তাদের মতে, শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, অভিযুক্তদের ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের কমিশনে রেখে বা শুধু সাময়িক বরখাস্ত করে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। তাদের অবশ্যই বিচারের জন্য আদালতে পাঠাতে হবে।”

তার মতে, নিজেদের কর্মকর্তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দুদক জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।

সম্প্রতি দুদকের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সংস্থার পরিচালক খান মো. মিজানুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে এক দুর্নীতি মামলার আসামির কাছ থেকে চিকিৎসার খরচ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম এবং উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারকে দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়।

মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ ও এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা এবং এসেনশিয়াল ড্রাগসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ২৪৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শাস্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকিদের বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি বা বেতন কমানোর মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুদকের পরিচালক এনামুল বসির এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বরখাস্ত হন এবং ফৌজদারি মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে দুদকের উপ-পরিচালক সাব্বির আহমেদকে ১০ লাখ টাকা ঘুষসহ র‍্যাব হাতে-নাতে আটক করেছিল।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলাম বলেন, কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়ালে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। তিনি জানান, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও সেটি এখন ‘অকার্যকর’।

এসব বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।