সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটকে দুষছেন উদ্যোক্তারা

চট্টগ্রামে কমছে বিনিয়োগ প্রস্তাব, এক বছরে কমল ৩০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বিভাগে বিনিয়োগ প্রস্তাব আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমেছে।

বিডার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নিবন্ধিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে প্রায় ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা।

বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ কমলেও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮০টি থেকে বেড়ে ১৪৬টি হয়েছে। তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন করে বড় কোনো বিনিয়োগ আসছে না, বরং অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

কেন কমছে বিনিয়োগ

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, জমির উচ্চমূল্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ব্যাংকের উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, “অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। তার ওপর ১৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে ব্যবসা করবে? ব্যবসার লাভের ৪০ শতাংশই তো সুদ পরিশোধে চলে যাবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, “প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিলেও বিনিয়োগ সীমিত। পুরনো অনেক উদ্যোক্তা নিবন্ধন নিয়েও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিনিয়োগে যাচ্ছেন না।”

বিডার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অংগ্যজাই মারমা বলেন, “আগের তুলনায় বিনিয়োগ কমেছে। তবে নিবন্ধন নেওয়া মানেই কার্যকর বিনিয়োগ নয়। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।”

বিডার তথ্যমতে, গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য কিছু বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিটুপি হেলথকেয়ার পিএলসি, সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ইউনিটেক্স এলপি গ্যাস, কেডিএস গার্মেন্টস, বিএসআরএম এবং টিকে গ্রুপের ম্যাফ সু লিমিটেড।

পাঠকপ্রিয়