চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস, পাহাড়তলী ও সিআরবিসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাসা অবৈধ দখলে রয়েছে, যার নেপথ্যে স্বয়ং রেলওয়েরই এক শ্রেণির কর্মীরা জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, রেলকর্মীরা নিজেদের নামে বরাদ্দ নেওয়া বাসায় না থেকে সেগুলো বাইরের লোকের কাছে মোটা অংকের অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ায় ‘সাবলেট’ দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কোয়ার্টারের সামনের খালি জায়গায় অবৈধভাবে নতুন ঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে একটি শক্তিশালী চক্র মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তথ্যমতে, টাইগারপাস ও পাহাড়তলী এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ৫ হাজার ৩২৯টি বাসা রয়েছে। এর বেশিরভাগ বাসাই এখন বহিরাগতদের দখলে।
যেভাবে চলে ভাড়া বাণিজ্য
সরেজমিনে নগরীর টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনিতে বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেখে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুই রুমের একটি পাকা বাসার ভাড়া মাসে ৯ হাজার টাকা এবং তিন রুমের সেমি-পাকা বাসার ভাড়া ৭ হাজার টাকা। তিনি রেলের এক কর্মচারীর পক্ষ থেকে বাসাগুলো দেখাশোনা করেন বলে জানান।
আইস ফ্যাক্টরি রোডের কলোনিতে বাসা, দোকান, গুদাম এমনকি কোচিং সেন্টারও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এক ভাড়াটিয়া জানান, তিনি বাসার মালিককে দেখেননি, মাস শেষে বিকাশে ভাড়া পাঠিয়ে দেন। এককালীন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে এবং মাসে ১০-১২ হাজার টাকা ভাড়ায় থাকছেন বহু মানুষ।
এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রেলের একজন কর্মচারী বলেন, “কোয়ার্টারে সুযোগ-সুবিধা তেমন ভালো না। সামনে কিছু জায়গা খালি পড়ে আছে, তাই তিনটি ঘর করে ভাড়া দিয়েছি। শুধু আমি না, রেলের ৮০ শতাংশ স্টাফই তাদের বাসার সামনের জায়গায় ঘর করে ভাড়া দেয়। আমরা তো চুরি-ডাকাতি করছি না!”
একই চিত্র দেখা গেছে জান আলী হাট স্টেশনের রেলওয়ে কোয়ার্টারগুলোতেও। রেলের তথ্যমতেই, সেখানকার ৪৪টি বাসার মধ্যে ৩০টিতেই অবৈধ দখলদাররা বসবাস করছেন এবং কলোনির খালি জায়গায় আরও অন্তত ৫০টি অবৈধ ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ–সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুব উল করিম এই সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “রেলওয়েতে বেশির ভাগ স্টাফ নিজের জন্য বাসা বরাদ্দ নিয়ে বাইরের লোকের কাছে ভাড়া দেন। আবার তাদের সেই ভাড়াটিয়া যখন ভাড়া দেয় না, তখন উচ্ছেদের জন্য আমাদের কাছেই আসেন।”
মাহাবুব উল করিম আরও বলেন, “কোয়ার্টারের ভেতরের খোলা জায়গায় যেসব বাসা তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদ করা একটু বিব্রতকর। তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। রেলের জায়গায় তো বাইরের কেউ অবৈধভাবে থাকতে পারে না।”