সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক কেলেঙ্কারি: পরীক্ষা না দিয়েই জিপিএ-৫, উধাও লাখ লাখ খাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও জিপিএ-৫ পাওয়া, পুনঃনিরীক্ষণে জালিয়াতি করে নম্বর বাড়ানো, এমনকি গুদাম থেকে সাড়ে ১০ লাখ পরীক্ষার খাতা উধাও হয়ে যাওয়ার মতো একের পর এক ঘটনায় বিতর্কের কেন্দ্রে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।

এসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়গুলোকে ‘ছোটখাটো ভুল’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষা না দিয়েই পাস

গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষার্থী আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও জিপিএ-৫ পেয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ফলাফল বাতিল করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

পুনঃনিরীক্ষণে নম্বর জালিয়াতি

এবারের এসএসসি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণে ১৯ জন শিক্ষার্থীর ৩৪টি খাতায় সার্ভারে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হককে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী কিছু ‘গরমিল’ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে।

উধাও সাড়ে ১০ লাখ খাতা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গুদাম থেকে প্রায় ৬ লাখ মূল খাতা এবং সাড়ে ৪ লাখ অতিরিক্ত খাতা (লুজ শিট) উধাও হয়ে গেছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ জানান, ৩০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম খাতা গণনা করা হয়েছে এবং ঘাটতির বিষয়টি জানার পর থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্রনাথ নিজ ছেলের ফল জালিয়াতি করে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অভিযোগ

এদিকে, নাঈম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির অভিযোগে জানা যায়, খাগড়াছড়ির এক ছাত্রী সাদিয়া জাহান লাভলীর নামে পিয়াল আশরাফ শান্ত নামে এক ছাত্র পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এটিকে ‘কম্পিউটার শাখার ভুল’ বলে দাবি করলেও বিষয়টি তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, “আমার সময়ের প্রতিটি ঘটনার জন্য পৃথক কমিটি করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পাঠকপ্রিয়