সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের বেতন ৪ গুণ কম

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের বেতন অনেক কম, যা তরুণ ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে চলে যেতে উৎসাহিত করছে।

সম্প্রতি ‘স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি জনবলের বেতন নীতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতের একজন চিকিৎসকের গড় বার্ষিক বেতন যেখানে ১৬ লাখ টাকার বেশি, সেখানে বাংলাদেশে তা মাত্র ৩ লাখ টাকা।

এই বেতনের স্বল্পতা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নবীন চিকিৎসক ডা. আব্দুল মুকিত জানান, এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মাসে গড়ে ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পাচ্ছেন, যা তার কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গবেষণা অনুযায়ী, চিকিৎসকদের বার্ষিক গড় বেতন নেপালে ১০ লাখ ৩২ হাজার এবং শ্রীলংকায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যুক্তরাজ্যের একজন ডাক্তারের বার্ষিক বেতন প্রায় ৯৮ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৩৩ গুণ বেশি।

নার্সদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বাংলাদেশে একজন নার্স বছরে গড়ে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন পেলেও ভারতে পান ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

সম্প্রতি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস, বাংলাদেশ (এএইচআরবি)’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা কম বেতনে সেবা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য খাতের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে, না হলে স্বাস্থ্য খাতে দৈন্যদশা কমবে না।”

তবে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসক ডা. আলী আফতাব মনে করেন, বাংলাদেশে সরকারি চিকিৎসকদের বেসরকারি প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকায় এটি কম বেতনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে। এককভাবে শুধু চিকিৎসকদের বেতন বাড়ালে অন্যান্য সরকারি ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, “একজন সিভিল সার্জনকে যে বেতন দেওয়া দরকার, তা দেওয়া হয় না। বেতন কাঠামোর পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগও তাদের প্রাপ্য।” শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ তরুণ চিকিৎসকদের হতাশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভা থেকে স্বাস্থ্য খাতের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো, দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের জন্য বিশেষ ভাতা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে প্রণোদনার সুপারিশ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের বেতন ৪ গুণ কম

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৭

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের বেতন অনেক কম, যা তরুণ ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে চলে যেতে উৎসাহিত করছে।

সম্প্রতি ‘স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি জনবলের বেতন নীতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতের একজন চিকিৎসকের গড় বার্ষিক বেতন যেখানে ১৬ লাখ টাকার বেশি, সেখানে বাংলাদেশে তা মাত্র ৩ লাখ টাকা।

এই বেতনের স্বল্পতা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নবীন চিকিৎসক ডা. আব্দুল মুকিত জানান, এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মাসে গড়ে ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পাচ্ছেন, যা তার কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গবেষণা অনুযায়ী, চিকিৎসকদের বার্ষিক গড় বেতন নেপালে ১০ লাখ ৩২ হাজার এবং শ্রীলংকায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যুক্তরাজ্যের একজন ডাক্তারের বার্ষিক বেতন প্রায় ৯৮ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৩৩ গুণ বেশি।

নার্সদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বাংলাদেশে একজন নার্স বছরে গড়ে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন পেলেও ভারতে পান ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

সম্প্রতি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস, বাংলাদেশ (এএইচআরবি)’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা কম বেতনে সেবা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য খাতের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে, না হলে স্বাস্থ্য খাতে দৈন্যদশা কমবে না।”

তবে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসক ডা. আলী আফতাব মনে করেন, বাংলাদেশে সরকারি চিকিৎসকদের বেসরকারি প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকায় এটি কম বেতনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে। এককভাবে শুধু চিকিৎসকদের বেতন বাড়ালে অন্যান্য সরকারি ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, “একজন সিভিল সার্জনকে যে বেতন দেওয়া দরকার, তা দেওয়া হয় না। বেতন কাঠামোর পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগও তাদের প্রাপ্য।” শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ তরুণ চিকিৎসকদের হতাশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভা থেকে স্বাস্থ্য খাতের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো, দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের জন্য বিশেষ ভাতা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে প্রণোদনার সুপারিশ করা হয়।