আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী ভোটারদের টার্গেট করে সারা দেশে সক্রিয় হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মহিলা বিভাগের কর্মীরা নারীদের প্রভাবিত করতে মাঠে নেমেছে—এমন তথ্যের পর পাল্টা কৌশল নিয়ে নামছে বিএনপি। সরাসরি দলীয় ব্যানারে না এসে ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’-কে দিয়ে দেশব্যাপী নারী সম্পৃক্ত কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে দলটি।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তথ্য রয়েছে যে, জামায়াত তৃণমূল পর্যায়ে নারী ভোটারদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বলয় তৈরির চেষ্টা করছে, যা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নারী ভোটারদের কাছে টানতে বিএনপি তাদের সমর্থিত সাবেক ও বর্তমান নারী জনপ্রতিনিধিদের সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিএনপির নির্বাচনি ভাবনাগুলো নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের অধিকার, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে সচেতন করা। মূলত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি সমর্থিত সাবেক ও বর্তমান নারী জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
কর্মসূচিটি শুরু হবে আগামী ১৪ অক্টোবর খুলনা বিভাগ থেকে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই কার্যক্রম চালানো হবে। ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’-এর আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন।
ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, “এ কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে, বিএনপির ভাবনাগুলো নারী ভোটারদের সামনে তুলে ধরা। তাঁদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে আমরা কথা বলব এবং নারী ভোটারদের সচেতন করব। এটাই আমাদের মূল উদ্যোগ।”
ফোরামের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান জামায়াতের নারী কর্মীদের মাঠে নামার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এ জন্যই আমাদের অঙ্গসংগঠনগুলো মাঠে কাজ করছে। আমাদের মূল বার্তা হচ্ছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে, বিশেষভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে।”
কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা, ১৫ অক্টোবর বৃহত্তর যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল এবং ১৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।