একসময় বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুরোনো জাহাজ ভাঙা হতো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে। তবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা এবং পরিবেশগত চাপের মুখে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্প খাত এখন পতনের মুখে।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে সীতাকুণ্ডে শতাধিক জাহাজভাঙা ইয়ার্ড বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
কেআর গ্রুপের চেয়ারম্যান সেকান্দার হোসেন টিংকু জানান, একটি ইয়ার্ডে গড়ে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। গত ১০-১২ বছরে প্রায় ১৪০টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় কমপক্ষে অর্ধলাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন।
ডলার সংকট ও বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় জাহাজ আমদানিও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে ২৭ লাখ টন স্ক্র্যাপ লোহা আমদানি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তা মাত্র ৫ লাখ টনে নেমে এসেছে।
সংকটের মধ্যেও নতুন আশা ‘গ্রিন ইয়ার্ড’
পরিবেশদূষণ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার ঝুঁকিসহ নানা সমালোচনার মুখে শিল্পটিকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক আইন ‘হংকং কনভেনশন’ অনুযায়ী ইয়ার্ডগুলোকে ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’ রূপান্তর করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু উদ্যোক্তা শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তাদের ইয়ার্ডকে পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’ রূপান্তর করছেন, যা এই শিল্পে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
বিএসবিআরএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমজাদ চৌধুরী জানান, এখন পর্যন্ত ১৭টি ইয়ার্ড ‘গ্রিন’ সনদ পেয়েছে এবং আরও ১৫-২০টি রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি বলেন, একটি গ্রিন ইয়ার্ড স্থাপনে ২০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে, যা অনেক উদ্যোক্তার পক্ষেই বহন করা কঠিন।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি আবু তাহের জানান, ষাটের দশকে চট্টগ্রামে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং আশির দশকে এটি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসার সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী শাহিন বলেন, “আগামী দশকে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার জাহাজ স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য আসবে। ব্যবসায়ীরা গ্রিন ইয়ার্ড তৈরিতে মনোযোগ না দিলে এই বিশাল বাজার হাতছাড়া হবে।” তিনি এই খাতে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ারও আহ্বান জানান।