সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

জুলাই সনদ স্বাক্ষর ঘিরে অভ্যুত্থানের দুই শরিকের পাল্টাপাল্টি, দূরত্ব বাড়ল বিএনপি-এনসিপিরও

বিএনপি-জামায়াতের ওপর হঠাৎ এনসিপির তোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদ স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দুই শরিক জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। জামায়াতের পিআর পদ্ধতির আন্দোলনকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে জামায়াত এই বক্তব্যকে ‘বালখিল্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, সনদ স্বাক্ষরের দিন ‘জুলাইযোদ্ধা’দের ওপর পুলিশের হামলা নিয়ে করা এক মন্তব্যের জেরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতাই এই দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির মূল কারণ।

জামায়াতের বিরুদ্ধে এনসিপির তোপ

রোববার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) আন্দোলন একটি ‘সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা’, যা ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং গণঅভ্যুত্থানের আলোকে সংবিধান পুনর্গঠনের মূল প্রশ্ন থেকে আলোচনাকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদের আইনি কাঠামো তৈরির জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াত একে ছিনতাই করে ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার বানিয়েছে।” নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত কখনোই সংস্কার আলোচনায় আন্তরিক ছিল না, বরং তাদের অংশগ্রহণ ছিল ‘কৌশলগত অনুপ্রবেশ’ ও ‘রাজনৈতিক নাশকতা’।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে বলেছে, এই মন্তব্য ‘সর্বৈব মিথ্যা, দুঃখজনক ও বালখিল্য’। জামায়াত এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছিলেন, জামায়াত জাতীয় স্বার্থে সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু এনসিপি করেনি। তবে সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলনে তারা মাঠে রয়েছে।

যেখান থেকে দূরত্বের শুরু

সূত্র জানায়, এনসিপি চেয়েছিল জামায়াতও যেন তাদের মতো সনদ স্বাক্ষরের আগে এর আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তার দাবিতে চাপ অব্যাহত রাখে। কিন্তু জামায়াত তাতে রাজি হয়নি। এছাড়া, এনসিপি সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চাইলেও জামায়াত উভয় কক্ষেই এই পদ্ধতি চায়, যা নিয়ে இரு দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, “জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদ আইনি ভিত্তি ছাড়া সনদে স্বাক্ষর না করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। এতে প্রমাণ হয়, সংস্কারের সংলাপে অংশগ্রহণ তাদের রাজনৈতিক প্রতারণা ছিল।” তিনি বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতা ভাগাভাগির পুরোনো রাজনীতি’ করারও অভিযোগ আনেন।

বিএনপি-এনসিপি বিরোধ

অন্যদিকে, সনদ স্বাক্ষরের দিন ‘জুলাইযোদ্ধা’দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারীদের’ কাজ বলে মন্তব্য করায় তার ওপর ক্ষুব্ধ এনসিপি। নাহিদ ইসলাম সালাহউদ্দিন আহমেদকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এর জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিএনপিকে গণঅভ্যুত্থানের বিপরীতে দাঁড় করানোর ‘অপচেষ্টা’ সফল হবে না।

তবে তিন দলের নেতারাই জানিয়েছেন, সনদ নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা বা জোট গঠনের পথ খোলা রয়েছে।

পাঠকপ্রিয়