দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও জব্দ করেছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা এসব সম্পদের একটি বড় অংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং তাদের সমর্থিত ব্যবসায়ীদের বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, এই নয় মাসে মোট ২ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩২টি গাড়ি, ৭৩টি বাড়ি, ১ হাজার ১২৭টি ফ্ল্যাট, ৪৪টি প্লট, অসংখ্য দোকান এবং ৪ হাজার ৯০৫ একর জমি।
একই সময়ে জব্দ করা অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা থাকা নগদ টাকা, সঞ্চয়পত্র, কোম্পানির শেয়ার এবং স্বর্ণালঙ্কার। বিদেশে থাকা কিছু ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।
দুদক জানায়, দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত বিভিন্ন ধাপে এসব সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। জব্দকৃত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য আদালত রিসিভার নিয়োগ করেছেন, যারা সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি আয়-ব্যয়ের হিসাব আদালতে জমা দিচ্ছেন। দুদকের নিজস্ব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটও এ কাজে সহায়তা করছে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “আইন অনুযায়ী দুদক আদালতের আদেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত সম্পদ ক্রোক বা জব্দ করতে পারে। আমরা এ বিষয়গুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং করছি।” তিনি জানান, এই ইউনিটে জনবল সংকট রয়েছে এবং ক্রোককৃত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
বিভিন্ন মাসে আদালতের দেওয়া আদেশ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া চলেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসেই প্রায় ২ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের আদেশ আসে। পরবর্তী মাসগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সেপ্টেম্বরে বিদেশে থাকা দুটি বাড়িসহ প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়, তারই অংশ হিসেবে এসব সম্পদ জব্দ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।