সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

সিইপিজেডের তিন-চতুর্থাংশ কারখানাই ‘অগ্নি ঝুঁকিতে’, সনদের ‘তোয়াক্কা’ নেই

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (সিইপিজেড) প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কারখানাই বাধ্যতামূলক ফায়ার সেফটি কার্যকারিতা সনদ ছাড়াই চলছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাম্প্রতিক এক তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি জোনের ভেতরে দুটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এই তদন্ত প্রতিবেদনটি গত সপ্তাহে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিইপিজেডের ১৬৪টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৫৫টির বর্তমানে বৈধ কার্যকারিতা সনদ রয়েছে।

প্রতিটি কারখানার স্থাপনের সময় একটি ফায়ার সেফটি প্ল্যানের অনুমোদন নেওয়া এবং পরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর কিনা তা পরিদর্শনের মাধ্যমে একটি কার্যকারিতা সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ সনদের এই অভাব কেবল অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩-এর লঙ্ঘনই নয়, এটি শ্রমিক এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে এটি বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, পুরোনো ভবনগুলোতে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের আগে নির্মিত ভবনগুলোতে, অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেগুলোর বেশিরভাগই ফায়ার সেফটি কোড মেনে তৈরি করা হয়নি। সিইপিজেডে পুড়ে যাওয়া ভবনটিও তেমনই একটি পুরোনো কাঠামো ছিল।

তবে সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান জানান, পুড়ে যাওয়া কারখানা দুটির এই বছরের জুন পর্যন্ত বৈধ সনদ ছিল। তারা ইতোমধ্যে সনদ নবায়নের জন্য আবেদন করেছিল, যা ঘটনার সময় প্রক্রিয়াধীন ছিল।

সর্বশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আব্দুস সোবহান বলেন, “কতগুলো কারখানার বৈধ কার্যকারিতা সনদ নেই সে সম্পর্কে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তারা যদি আমাদের তালিকা সরবরাহ করে, তবে উভয় কর্তৃপক্ষই এটি সংশোধনের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে পারে।”

এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অগ্নি নিরাপত্তার তথ্য হালনাগাদ করেছে এবং বিশেষ করে রপ্তানি জোন ও শিল্প পার্কে পরিচালনাকারী কারখানাগুলোর জন্য আরও কঠোর প্রয়োগকারী ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।

তারা আরও জানান, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার ভেতরের আরও বেশ কয়েকটি কাঠামো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দূরত্ব না মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে, যা অগ্নি নিরাপত্তার মানদণ্ডের লঙ্ঘন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

সিইপিজেডের তিন-চতুর্থাংশ কারখানাই ‘অগ্নি ঝুঁকিতে’, সনদের ‘তোয়াক্কা’ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ নভেম্বর ২০২৫, ২২:২৪

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (সিইপিজেড) প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কারখানাই বাধ্যতামূলক ফায়ার সেফটি কার্যকারিতা সনদ ছাড়াই চলছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাম্প্রতিক এক তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি জোনের ভেতরে দুটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এই তদন্ত প্রতিবেদনটি গত সপ্তাহে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিইপিজেডের ১৬৪টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৫৫টির বর্তমানে বৈধ কার্যকারিতা সনদ রয়েছে।

প্রতিটি কারখানার স্থাপনের সময় একটি ফায়ার সেফটি প্ল্যানের অনুমোদন নেওয়া এবং পরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর কিনা তা পরিদর্শনের মাধ্যমে একটি কার্যকারিতা সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ সনদের এই অভাব কেবল অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩-এর লঙ্ঘনই নয়, এটি শ্রমিক এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে এটি বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, পুরোনো ভবনগুলোতে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের আগে নির্মিত ভবনগুলোতে, অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেগুলোর বেশিরভাগই ফায়ার সেফটি কোড মেনে তৈরি করা হয়নি। সিইপিজেডে পুড়ে যাওয়া ভবনটিও তেমনই একটি পুরোনো কাঠামো ছিল।

তবে সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান জানান, পুড়ে যাওয়া কারখানা দুটির এই বছরের জুন পর্যন্ত বৈধ সনদ ছিল। তারা ইতোমধ্যে সনদ নবায়নের জন্য আবেদন করেছিল, যা ঘটনার সময় প্রক্রিয়াধীন ছিল।

সর্বশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আব্দুস সোবহান বলেন, “কতগুলো কারখানার বৈধ কার্যকারিতা সনদ নেই সে সম্পর্কে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তারা যদি আমাদের তালিকা সরবরাহ করে, তবে উভয় কর্তৃপক্ষই এটি সংশোধনের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে পারে।”

এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অগ্নি নিরাপত্তার তথ্য হালনাগাদ করেছে এবং বিশেষ করে রপ্তানি জোন ও শিল্প পার্কে পরিচালনাকারী কারখানাগুলোর জন্য আরও কঠোর প্রয়োগকারী ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।

তারা আরও জানান, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার ভেতরের আরও বেশ কয়েকটি কাঠামো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দূরত্ব না মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে, যা অগ্নি নিরাপত্তার মানদণ্ডের লঙ্ঘন।