চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ৪৮২ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও তদারকির জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এইও) রয়েছেন মাত্র একজন। অথচ পদ রয়েছে ৯টি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মরত একমাত্র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাও আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। ফলে আসন্ন মেধা যাচাই পরীক্ষা, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নতুন বছরের বই উৎসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও ৪৫টি কিন্ডারগার্টেন, দুটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ছয়টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ হাজার এবং শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৩৫০ জন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ তদারকির জন্য ৯ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও ৮টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমের মান কমছে। আগে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত মা ও অভিভাবক সমাবেশ হতো, যেখানে শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উৎসাহ জোগাতেন। এখন গুটিকয়েক বিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে তদারকি নেই বললেই চলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারী জানান, শুধু কর্মকর্তা নয়, কর্মচারীদের সংকটও তীব্র। কার্যালয়ে কর্মচারীর ছয়টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন। পাঁচটি পদ শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কাজ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক বলেন, কিছু দিন পরই মেধা যাচাই নির্বাচন পরীক্ষা ও বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব। এসব কাজে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়োজিত থাকেন, আর তাদের সমন্বয় করেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এখন মাত্র একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিবিধ কার্যক্রম সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”