কারাবন্দি নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন বলে দাবি করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। তবে সরকারের এই মৌখিক দাবিতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না সু চির ছেলে কিম আরিস। তিনি মায়ের সুস্থতার সপক্ষে দালিলিক প্রমাণ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামরিক সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ‘মিয়ানমার ডিজিটাল নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সু চি ভালো আছেন। বিবৃতিতে সু চির নামের আগে সম্মানসূচক উপাধিও ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম আরিস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “মায়ের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি হয়তো মারা গেছেন কিংবা কোনো এক সময় মারা গেলে সেই খবরটিও হয়তো আমি জানতে পারব না।” ছেলের এমন বক্তব্যের পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে সু চির সুস্থতার বিষয়টি সামনে আনা হলো।
জান্তা সরকারের বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রয়টার্সকে কিম আরিস বলেন, “সামরিক বাহিনী সুস্থতার দাবি করছে, কিন্তু কোনো প্রমাণ দিচ্ছে না। তার সাম্প্রতিক কোনো ছবি নেই। পরিবার, চিকিৎসক বা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও কোনো প্রবেশাধিকার নেই। যদি সত্যিই তিনি সুস্থ থাকেন, তাহলে সেটির প্রমাণ দেওয়া হোক।”
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জান্তা সরকারের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি। অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল মিন আং হ্লাইং। সু চির বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ এনে প্রথমে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে ছয় বছর কমানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই সু চির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। গত বছর আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছিল, সু চি রাজধানী নেপিডোর একটি কারাগারে আছেন। তবে গত এক বছর ধরে আইনজীবীদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে কিম আরিস জানিয়েছিলেন, তিনি মায়ের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলেন।
গত সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে কিম আরিস বলেছিলেন, তার মায়ের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। বিশেষ করে দাঁত ও হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন তিনি, যা গত মার্চের ভূমিকম্পের সময় থেকে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তখন তাকে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানোর অনুরোধ করা হলেও তা রাখা হয়েছে কি না, তা এখনো অজানা।