সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দেশে প্রথম স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি ডিপো চালু, হাতের স্পর্শ ছাড়াই মিলবে তেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) জ্বালানি বিপণন ডিপো। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার কুমিল্লা–চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন মগবাড়ি এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

এই ডিপো থেকে কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় হাতের স্পর্শ ছাড়াই আধুনিক প্রযুক্তিতে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান। তিনি বলেন, “দেশের ইতিহাসে এই প্রথম অটোমেটেড পেট্রোলিয়াম ডিপোর যাত্রা শুরু হলো, যা জ্বালানি খাতে একটি নতুন মাইলফলক। এই ডিপো থেকে কোনো ধরনের হাতের স্পর্শ ছাড়াই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি গ্রহণ, মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলাগুলোয় দ্রুত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ একরের বেশি জায়গাজুড়ে এই ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

কুমিল্লার এই ডিপো থেকে ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ করবে তিনটি বিপণন কোম্পানি—পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা অয়েল পিএলসি ও যমুনা অয়েল পিএলসি। তবে পুরো ডিপোর অপারেশনাল তত্ত্বাবধানে থাকবে পদ্মা অয়েল পিএলসি। চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা থেকে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরাসরি এই ডিপোয় আসবে।

ডিপোটিতে একসঙ্গে প্রায় ২০ হাজার টন ডিজেল, দেড় হাজার টন পেট্রল ও দেড় হাজার টন অকটেন মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া একসঙ্গে ৪০টি ট্যাংকলরি ধারণক্ষমতার পার্কিং এলাকা ও ১২টি আধুনিক লোডিং বে-সংবলিত ফিলিং পয়েন্ট থেকে জ্বালানি বিতরণ করা হবে।

পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খাঁন, বিপিসির পরিচালক (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এ কে এম আজাদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

পাঠকপ্রিয়