সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড জিতল বাংলার পত্রিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অভিবাসন খাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৮ জন সাংবাদিক পেলেন ‘মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। এবারের আয়োজনে আঞ্চলিক সংবাদপত্র বিভাগে সেরা প্রতিবেদকের পুরস্কার জিতেছেন বাংলার পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক তরিকুল ইসলাম মোহাম্মদ হাসান।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও’র বাংলাদেশ প্রধান ম্যাক্স ট্যানন ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের রেইজ প্রকল্পের পরিচালক যুগ্ম সচিব ড. এ.টি.এম. মাহবুব-উল করিম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান।

এবার আঞ্চলিক পত্রিকা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলার পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক তরিকুল ইসলাম মোহাম্মদ হাসান। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন দৈনিক গ্রামীণ দর্পণের মোহাম্মদ শরীফ ইকবাল এবং তৃতীয় দৈনিক সুবর্ণগ্রামের আয়শা সিদ্দিকা।

জাতীয় দৈনিক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন দৈনিক সমকালের রাজীব আহমদ। দ্বিতীয় হয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের রাসেল আহমেদ এবং যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের কানিজ ফাতেমা ও প্রথম আলোর মো. মহিউদ্দিন।

অনলাইন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের কামরান সিদ্দিকী, জসিম উদ্দিন ও সালেহ শফিক। দ্বিতীয় হয়েছেন জাগোনিউজ২৪-এর রায়হান আহমদ এবং তৃতীয় বাংলাভিশনের মো. আবদুল্লাহ।

টেলিভিশন সংবাদ বিভাগে প্রথম হয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর সম্রাট হোসেন, দ্বিতীয় নিউজ ২৪-এর মাসুদা খাতুন এবং তৃতীয় এখন টিভির সাজিদ আরাফাত। অনুসন্ধানী টেলিভিশন প্রোগ্রাম বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ‘তালাশ’। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নাজমুল সাঈদ এবং রাকিবুল হাসান এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ ছাড়া রেডিও বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন রেডিও তেহরানের ঢাকার প্রধান বাদশা মিয়া। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং প্রাইজমানির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, অভিবাসীদের কথাগুলো সাংবাদিকরা তুলে ধরেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিবাসন হতে হবে নিরাপদ। ইউরোপ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপের আওতায় বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নেবে। পাশাপাশি বিদেশ-ফেরতদের রিইন্ট্রিগেশন বা পুনঃএকত্রীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী যায় তাদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, অভিবাসন নিয়ে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখি সংখ্যাটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সংখ্যার পেছনে যে মানুষেরা আছে সেই মানুষগুলোর গল্প সামনে আসা উচিত। আমি বিদেশ যেখানেই যাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাকীত্ব ও তাদের নানা সংকটের কথা শুনি। এই মানুষগুলোর পাশে থাকতে হবে।

তিনি আরও ঘোষণা দেন, কেবল বাংলাদেশের মধ্যে নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেসব দেশে থাকেন সেখান থেকেও যেন সাংবাদিকতা হয়, সে কারণে ব্র্যাক অন্তত দু’জন সাংবাদিককে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ করে দেবে যেন তারা সেখান থেকে প্রতিবেদন করতে পারেন। দ্রুতই ব্র্যাক এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও’র বাংলাদেশ প্রধান ম্যাক্স ট্যানন বলেন, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন খরচ অনেক বেশি। এই সমস্যার সমাধান জরুরি। কেন একজন মানুষকে বিদেশ যেতে চার-পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে হবে? সাংবাদিকরা নীতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, অভিবাসনের সাথে এখন কৃষি, অর্থনীতি, প্রবাসী আয়সহ অনেক বিষয় জড়িয়ে আছে। সেসব নিয়ে বৈচিত্র্যময় প্রতিবেদন হতে পারে। নিজ বক্তব্যে সাংবাদিকদের বিনয়ী ও মানবিক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের রেইজ প্রকল্প পরিচালক ড. এ.টি.এম. মাহবুব-উল করিম জানান, বিদেশ-ফেরতদের তথ্য সঠিকভাবে জানার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। সেটি হলে কত লোক বিদেশ থেকে আসছে, আবার কারা যাচ্ছে সেটি জানা সম্ভব হবে। সবাই মিলেই অভিবাসন খাতের অগ্রগতির জন্য কাজ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে মতবিনিময় অংশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকার ইতালি দূতাবাসের উপপ্রধান ফেডেরিক জেমপারেলি, আইএলওর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খান, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ শীপা হাফিজা, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

২০২৫ সালের মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, আইএলওর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খান এবং নিউজ ২৪-এর সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী।

উল্লেখ্য, অভিবাসন খাতের সাংবাদিকতাকে স্বীকৃতি দিতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করে ব্র্যাক। এ বছর মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের এক দশক পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প এবারের পুরস্কার প্রদান করেছে।

পাঠকপ্রিয়