সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

১৭ বছরের নির্বাসন শেষে মাতৃভূমিতে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিএনপির কোটি কোটি নেতা-কর্মী ও সমর্থকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর।

দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি লিখেছেন—‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী-কন্যাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানবন্দরে নামার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলি করেন এবং উপস্থিত সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যখন দেশ ছেড়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে দেশের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিনি ফিরলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দ্বিতীয় প্রধান নেতা হিসেবে। এদিকে তাঁর মা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে রাজধানীর পথে পথে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফুট সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে টাঙানো হয়েছে বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন। গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার প্রতিটি প্রবেশমুখ ছিল নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখর। তাঁদের চোখেমুখে ছিল উল্লাস আর কণ্ঠে ছিল নেতার ফিরে আসার আগমনী স্লোগান।

গণসংবর্ধনা ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে তাঁর নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

এর আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনা মঞ্চে যোগ দেবেন। ওই সমাবেশে শুধু তারেক রহমানই বক্তব্য দেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন এবং সেখান থেকে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে গিয়ে অবস্থান করবেন।

উল্লেখ্য, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টা) তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।

পাঠকপ্রিয়