সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

সেন্টমার্টিনগামী সব জাহাজে ভয়াবহ ত্রুটি, সহকারী মাস্টার দিয়েই চলছে সমুদ্রযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজগুলোতে একাধিক গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়েছে। এসব ত্রুটির মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রবাল দ্বীপে যাতায়াত করছেন পর্যটকরা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যৌথ অভিযানে জাহাজগুলোর এই বেহাল দশা উঠে আসে।

অভিযান শেষে কক্সবাজার বিআইডব্লিউটিএর নদী বন্দর কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াকিল জানান, পরিদর্শনকালে প্রায় সব জাহাজেই একটি সাধারণ ও গুরুতর ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। জাহাজের সনদপত্র অনুযায়ী যোগ্য প্রথম শ্রেণির মাস্টার থাকার কথা থাকলেও অনেক জাহাজেই তাঁদের পাওয়া যায়নি। বরং দেখা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার বা সহকারী মাস্টার দিয়েই এসব জাহাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। জাহাজ মালিকপক্ষ দ্রুত যোগ্য মূল মাস্টার সরবরাহের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।

তিনি আরও জানান, পরিদর্শনে ইঞ্জিন রুম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটিও ধরা পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ইঞ্জিনের প্রেসার ও কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করে মেইনটেনেন্স লগবুক সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ জাহাজেই এই লগবুক সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। বিশেষ করে ‘বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল ওয়ান’ নামের জাহাজটিতে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মাস্টার ছিলেন একজন সহকারী মাস্টার। তিনি জাহাজের ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ জরুরি সরঞ্জামের অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি, যা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সালাহউদ্দিন রশিদ তানভীর জানান, মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে পর্যটকবাহী জাহাজসমূহে কোস্টগার্ড, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জাহাজের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ক্রুদের দক্ষতা সনদ যাচাই করা হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানে যাত্রী তালিকা, নির্ধারিত ধারণক্ষমতা অনুসরণ, পর্যাপ্ত লাইফ সেভিং ইকুইপমেন্ট ও ক্রুদের দায়িত্বশীলতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরিদর্শনে যেসব ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে এবং এর ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকপ্রিয়