কক্সবাজারের মহেশখালীর কয়লাচালিত মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আগামীকাল শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে। ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন এই ইউনিটটি আগামী ডিসেম্বরে পুরোপুরি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
জাপানের সহায়তায় প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরকারের মেগাপ্রকল্পগুলোর অন্যতম। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) এর মধ্যে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
জাইকা ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা দিচ্ছে এবং বাকি ৭ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার ও কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) এর নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে ইউনিটটির নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্ল্যান্টের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে।
পুরো প্ল্যান্টে প্রতিদিন ১০ হাজার টন এবং প্রতিটি ইউনিটে ৫ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হবে। এখন পর্যন্ত ২ লাখ টন কয়লা মজুদ রয়েছে এবং আগামী ৭ আগস্ট আরও ৬৫ হাজার টন কয়লা পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে সরাসরি ট্যাংকে কয়লা আনলোডের জন্য দুটি জেটি ও ১৭ লাখ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন চারটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নে ১ হাজার ৬০৮ একর জমির উপর স্থাপিত হচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। সিপিজিসিবিএল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় কয়লা উত্তোলনের জন্য দুটি জেটি, কয়লা সংরক্ষণের জন্য চারটি ট্যাংক, ছাই সংরক্ষণের জন্য দুটি পুকুর এবং ৮০ একর জমিতে একটি কোল ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। মাতারবাড়ি গভীর বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের দুটি অংশ রয়েছে – একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যটি বন্দর।