প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ স্টার্টআপ সামিট ২০২৩-এর উদ্বোধন করেছেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী এই সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথমবারের মতো এই সামিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের জনশক্তি। তাই তাদের দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। চাকরির পেছনে না ঘুরে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হতে হবে যাতে তারা নিজেরাই অন্যদের চাকরি দিতে পারে। নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে তরুণরা আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক হবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নতুন ১০০ জন উদ্যোক্তার হাতে ১০ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সুবিধা নিশ্চিত করে নতুন কর্মপরিবেশ তৈরি করেছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে তরুণদের অনেকেই এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। তবে এটি করতে গিয়ে সরকারকে অনেক সমালোচনা সইতে হয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানান প্রধানমন্ত্রী। এখন দেশকে স্মার্ট হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন প্রমুখ। এসময় ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা এবং এ খাতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় স্টার্টআপ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় দশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে।
জানা যায়, দেশে এখন স্টার্টআপের সংখ্যা আড়াই হাজার। তৈরি হয়েছে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান। এছাড়াও ইকো সিস্টেমের ফলে বিদেশ থেকে বিনিয়োগ এসেছে নয়শ বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দেশীয় উদ্ভাবনী ব্যবসায়ীক পরিকল্পনা আরও শানিত করে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরিতে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় স্টার্টআপ সামিট।
বিভিন্ন দেশের স্টার্টআপ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর, রেগুলেটর ও বিশেষজ্ঞরা এই সামিটে অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।