তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন আদালত। আদালত সরকারকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিন এই রায় দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ পাওয়ায় আদালত বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেছেন। আদালত একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার বিক্ষোভে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী তার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন।
এরপর ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এ পরিস্থিতিতে আদালতের নতুন এ নির্দেশনা এলো।
রায় ঘোষণার পর বিএনপি নেতা-কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন এবং স্লোগান দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে স্বাগত জানান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।
মামলার বিবাদীরা হলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম. রেজাউল করিম চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং অন্যান্যরা।
মামলায় বলা হয়, নির্বাচনের সময় ইভিএমের প্রিন্ট করা কপি দেওয়ার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হয়নি। ফলে হাতে লেখা ফলাফল দেওয়া হয়, যা কারচুপির প্রমাণ বহন করে।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম. রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।
তবে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন মাত্র ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই রায়ে চট্টগ্রামসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষ খুশি হয়েছেন।