পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ বছর করার পরেও ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের অধীনে সব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ১ হাজার ৬১০টি ভবনের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৬টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ভবনে আইসিটি ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ না দেওয়ায় সেগুলো এখনো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
প্রকল্পের মেয়াদ আড়াই গুণ বাড়িয়েও এ সমস্যার সমাধান হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় ভবনগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আসবাবপত্র ও আইসিটি সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশেফাকুস সালেহীন বলেন, “বারবার নকশা পরিবর্তন, ডিপিপি সংশোধন, করোনা মহামারি এবং আইসিটি সরঞ্জাম সরবরাহের নীতিমালা প্রণয়নে সময়ক্ষেপণের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বর্ধিত মেয়াদে সব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও সব ভবনে আইসিটি ল্যাব সরবরাহ করা সম্ভব নাও হতে পারে।”
কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অসম্পূর্ণ স্কুল ভবন
প্রকল্পের শুরু হয় ২০১২ সালে, যার খরচ ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ডিপিপি সংশোধনের মাধ্যমে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকায়। বর্তমানে ১ হাজার ৫৫৬টি ভবনের নির্মাণ শেষ হয়েছে, তবে ৪৭টি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩৪টি ভবনের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের অধীনে ৯০৭টি ভবনে আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, ৮০৬টি ভবনে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৩৪০টি ভবনে আসবাব সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বাকি ভবনগুলোতে এসব সুবিধা এখনও দেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. হাসান মারুফ বলেন, “প্রকল্পের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।