সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

অন্তর্বর্তী সরকারের চার মাস: অর্থনীতিতে এখনো স্বস্তি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধারে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, চার মাস পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসেনি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৩৮ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৩.৮০ শতাংশ, যা অক্টোবর মাসের তুলনায় বেশি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে। নীতি সুদহার একাধিকবার বৃদ্ধি এবং আমদানি বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও সুফল দেখা যাচ্ছে না।

ব্যাংক খাত সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্স ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। তারল্য সংকট মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সময় প্রয়োজন। তিনি জানিয়েছেন, মুদ্রানীতির সুফল পেতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে।

সুদহার বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি বলেছেন, এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে সফল উদ্যোগ হলো বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ব্যবস্থাপনা, যার ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন কিছুটা ঠেকানো গেছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস, টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি, বাজার তদারকি ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সুফল মিলছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মূল্যস্ফীতির এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের চার মাসেও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৬.৯৩ শতাংশ খেলাপি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করে অর্থনীতি ঠিক করতে সময় লাগবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুদহার বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের অসাধু নীতি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলার তথ্য উন্মুক্ত করা, চাঁদাবাজি বন্ধ করা ইত্যাদি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

পাঠকপ্রিয়