চট্টগ্রাম নগরের সড়ক আলোকায়নে ভারতীয় ঋণ সহায়তায় গৃহীত একটি প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। ২৬০ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অর্থনেতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সূত্রে জানা গেছে, ‘মর্ডানাইজেশন অব সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম অ্যাট ডিফারেন্স এরিয়া আন্ডার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে এলওসি-৩ (লাইন অব ক্রেডিট) এর আওতায় ঋণ হিসেবে ভারতের অর্থের পরিমাণ ধার্য ছিল ২১৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বা ৪৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫ হাজার টাকা বাংলাদেশ সরকার দেয়ার কথা ছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিকের সঙ্গে গত ৬ জুলাই ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘শাপার্জি পালনজি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’র চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নগরের ৪১ ওয়ার্ডে পাঁচ মিটারের বেশি প্রশস্ত সড়কে ৪০, ৬০, ১০০ ও ২৫০ ওয়াটের ২০ হাজার ৬০০টি এলইডি বাতি, ২০ হাজার ২৬৭টি জিআই পোল এবং ৫০৭টি কন্ট্রোল সুইচবঙ বসানোর কথা ছিল। এছাড়া হাইড্রোলিক বীম লিফটার ও ইলেকট্রিক্যাল ইক্যুপমেন্ট সংগ্রহ করার কথা ছিল।
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ পর্যন্ত ৭৩৬ কোটি মার্কিন ডলারের তিনটি ঋণচুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ঋণের অর্থ দিবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। তিনটি চুক্তির বিপরীতে গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১৮৪ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়নে ‘মর্ডানাইজেশন অব সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম অ্যাট ডিফারেন্স এরিয়া আন্ডার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’ প্রকল্পটি গ্রহণ করে চসিক।
জানা গেছে, তিনটি এলওসি চুক্তির বিপরীতে চসিকেরটিসহ দেশে মোট ৪০টি প্রকল্প নেয়া হয়। এর মধ্যে চলমান আছে ৮টি প্রকল্প। গত জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদার এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লোকজন নিজ দেশে চলে যান। এরপর থমকে যায় প্রকল্পের কাজ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এ অবস্থায় গত ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় চলমান প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখেই সেগুলো হাতে নেওয়া হয়েছিল। এসব প্রকল্প বন্ধ হবে না’।
তবে চসিকের পত্র দেয়ার আগের দিন ২ ডিসেম্বর প্রকল্পটির বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত একটি পত্র দেয়া হয় ইআরডি সচিব বরাবর। এতে বলা হয়, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির কার্যক্রম গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি বাতিল হচ্ছে।