মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি জাহাজ চলাচলে আমদানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

করাচির সাথে চট্টগ্রামের সরাসরি জাহাজ চলাচল দেশের আমদানিকারকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো করাচি থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে আসা জাহাজে ৩২৮ টিইইউএস আমদানি পণ্য ছিল। এর মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় দ্বিতীয় ভয়েজে তা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮২৫ টিইইউএস কন্টেইনারে উন্নীত হয়েছে।

গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো করাচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা “এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং” জাহাজটিতে ৭১২ টি কন্টেইনার সরাসরি করাচি থেকে আমদানি করা হয়েছে। এসব কন্টেইনারে ভোগ্যপণ্য, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ সহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল রয়েছে।

করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি জাহাজ চলাচল পাকিস্তান থেকে পণ্য আনা-নেওয়া অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক করেছে। একটি নতুন উৎস তৈরি হওয়ায় আমদানিকারকদের মাঝে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এই রুটে জাহাজ সংখ্যা বৃদ্ধির কথা ভাবছে শিপিং কোম্পানি। দ্বিতীয় জাহাজ চলাচল শুরু হলে ৩৮ দিনের পরিবর্তে প্রতি ২০ দিনে করাচি-চট্টগ্রাম ভয়েজ সম্পন্ন হবে।

এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং নামের কন্টেইনার জাহাজটি দুবাই থেকে পাকিস্তানের করাচি হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম জাহাজ যেটি পাকিস্তানের করাচি থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল।

প্রথম ভয়েজে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে সেখান থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছিল। ওই সময় জাহাজটিতে সোডা অ্যাশ, ডলোমাইট চুনাপাথর, ম্যাগনেসিয়াম, ভাঙা কাচ, গার্মেন্টসের কাঁচামাল, কাপড়, রং, গাড়ির যন্ত্রাংশ, পেঁয়াজ, আলু, খেজুর, জিপসাম, পুরনো লোহার টুকরা, মার্বেল ব্লক, কপার ওয়্যার, রেজিন, হুইস্কি, ভদকা ও ওয়াইন ছিল।

এবার জাহাজটিতে প্রথমবারের চেয়ে প্রায় তিনগুণ কন্টেইনার রয়েছে। জাহাজটিতে থাকা ৮২৫ টিইইউএস কন্টেইনারের মধ্যে ২৮৫ টিইইউএস কন্টেইনারে পরিশোধিত চিনি, ১৭১ টিইইউএস কন্টেইনারে ডলোমাইট, ১৩৮ টিইইউএস কন্টেইনারে সোডা অ্যাশ, ৪৬ টিইইউএস কন্টেইনারে গার্মেন্টসের কাপড়ের রোল, ২০ টিইইউএস কন্টেইনারে আখের গুড়, ১৮ টিইইউএস কন্টেইনারে আলু এবং ২০ টিইইউএস কন্টেইনারে পুরনো লোহার টুকরা, রেজিন ও কাপড় রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জাহাজটিতে বোঝাই করা কন্টেইনারে খেজুর, লুব অয়েল, মার্বেল পাথর সহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

পাকিস্তান থেকে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় একটি নতুন সোর্স তৈরি হলো যা প্রতিযোগিতামূলক দরে পণ্য আমদানির ক্ষেত্র প্রসারিত করবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

দুবাইভিত্তিক কন্টেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা “ফিডার লাইনস ডিএমসিসি” এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং জাহাজ দিয়ে দুবাই থেকে পাকিস্তান হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নতুন রুট তৈরি করে সেবা প্রদান শুরু করেছে। তারা দুবাই, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মুন্দ্রা বন্দরকে এই রুটে সংযুক্ত রেখেছে।

কর্ণফুলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান “রিজেন্সি লাইনস লিমিটেড” জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট। গ্রুপটির নির্বাহী পরিচালক আনিস উদ দৌলা বলেন, “করাচি-চট্টগ্রাম জাহাজ চলাচল ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা আরও খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাদের অতীতের ভোগান্তি এই একটি জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে দূর হয়েছে।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। আজ রোববার সকালে জাহাজটিকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে বার্থিং দেওয়া হবে।

পাঠকপ্রিয়