চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে “এমভি আল বাখেরা” নামক লাইটার জাহাজে সাতজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য গভীর হচ্ছে। জাহাজ মালিকপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রাত ৮টার পর জাহাজে কর্মরতদের সঙ্গে তাদের শেষ যোগাযোগ হয়েছিল। পরদিন সকাল থেকে তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
সোমবার বিকালে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীতে লাইটার জাহাজ “আল বাখেরা” থেকে পাঁচজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে আরও তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাহাজটিতে মাস্টারসহ মোট আটজন কর্মী ছিলেন বলে মালিকপক্ষ জানিয়েছে।
জাহাজের মালিক মাহবুব মোরশেদ বিপলু বলেন, “রোববার রাত ৮টার পর জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে শেষবার কথা হয়। তখনও সব ঠিক ছিল। সোমবার সকাল থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।”
পরে “আল বাখেরা”র কাছাকাছি থাকা অপর একটি লাইটার জাহাজের মাধ্যমে তারা খবর পেয়ে নৌ পুলিশকে জানান।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে। পরে আরও তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজন মারা যান। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন জাহাজের মাস্টার কিবরিয়া, ইঞ্জিন চালক সালাউদ্দিন, সুকানি আমিনুল মুন্সি ও গ্রিজার সজিবুল, আজিজুল ও মাজেদুল ইসলাম। আরও একজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আহত ব্যক্তির নাম জুয়েল। তাদের সবার বাড়ি নড়াইলে।
মালিক মাহবুব মোরশেদ বিপলু বলেন, জাহাজটি চট্টগ্রামের কাফকো থেকে ৭২০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।
ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কর্মকর্তা আতাউল করিম রঞ্জু বলেন, ইউরিয়া সার বোঝাই করে জাহাজটি সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে বিসিআইসির ডিপোতে যাওয়ার কথা ছিল।
এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।