সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামের সানজিদের বাজিমাত, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় সেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের শিকদার পাড়ার ছেলে সানজিদ অপূর্ব বিন সিরাজ। এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে চমকে দিয়েছেন সবাইকে। ৯০.৫ স্কোর পেয়ে সানজিদ এখন আনন্দে আত্মহারা।

সানজিদ জানান, দেশসেরা দ্বিতীয় হবেন, এমনটা কখনোই ভাবেননি। তবে কোচিংয়ের মডেল টেস্টে ৮০-৯০ এর উপরে নম্বর পেয়ে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। জুলাই-আগস্টের দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কিছুটা মানসিক চাপে প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটেছিল তার।

১১ বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে বাবা সিরাজুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর মা খাইরুন্নেছা এবং দুই ভাইয়ের স্নেহের পরশে বড় হয়েছেন সানজিদ। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেজ ভাই চুয়েটে পড়াশোনা করেছেন। দুই ভাইকে দেখে সানজিদেরও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা জাগলেও পরবর্তীতে মা ও দুই ভাইয়ের ইচ্ছায় মেডিকেলে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সানজিদ বলেন, “আমার বংশে এর আগে কেউ ডাক্তারি পড়েনি। মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল আমি যেন ডাক্তারি পড়ি। বাবার ক্যান্সারে মৃত্যুর পর থেকেই মায়ের এই ইচ্ছাটা প্রবল হয়। গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হই। ২০২২ সালে এসএসসিতে এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করি।”

“মেডিকেলে পড়ার স্বপ্নযাত্রা শুরু করেছিলাম গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। অনলাইনে প্রি-মেডিকেল কোর্সে ভর্তি হই। তবে সিরিয়াসলি পড়াশোনা করেছি এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকে। রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করেছি। নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ছিল মেডিকেলে চান্স পাবো। আমার এই সাফল্যে মা খুবই খুশি হয়েছেন। মায়ের আনন্দ দেখে আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। ডাক্তার হয়ে গরীব দুঃখী মানুষের সেবা করতে চাই।”

ভবিষ্যতে যারা মেডিকেলে পড়তে চায়, তাদেরকে এইচএসসিতে পড়ার সময় থেকেই প্রস্তুতি শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন সানজিদ।

সানজিদের এই সাফল্যে তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ উচ্ছ্বাস। তারা বলছেন, সানজিদের এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সকলেই সানজিদকে একজন মানবিক ডাক্তার হিসেবে দেখতে চান।

পাঠকপ্রিয়