চট্টগ্রাম মহানগরীতে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রির (ওএমএস) ডিলারের সংখ্যা এবং বরাদ্দ দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে নগরীতে ৪৬ জন ওএমএস ডিলার সক্রিয় রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, বর্তমানে একজন ডিলার একদিন পরপর ১ টন চাল এবং ১ টন আটা বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। একজন ভোক্তা ডিলারের নির্দিষ্ট দোকান থেকে প্রতি কেজি ২৪ টাকা দামে ৫ কেজি আটা এবং ৩০ টাকা দামে ৫ কেজি চাল ক্রয় করতে পারেন। সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার ওএমএস কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হিসাব মতে, নগরীতে ৭০ লক্ষ লোকের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য ৪৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএসের যে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল।
গত ২১ জানুয়ারি খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের চট্টগ্রাম সফরের সময় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে খাদ্য উপদেষ্টার সাথে আলোচনা করেন। মেয়র নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ৮২ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি বরাদ্দ দ্বিগুণ করার অনুরোধ জানালে খাদ্য উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগরীতে বসবাসকারী মানুষের তুলনায় ৪১ জন ওএমএস ডিলারের বরাদ্দ খুবই কম। আমি খাদ্য উপদেষ্টার কাছে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ওএমএস ডিলার দ্বিগুণ করে ৮২ জন করার এবং বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। খাদ্য উপদেষ্টা আমার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন। আশা করছি নগরীতে ওএমএস ডিলার ও বরাদ্দ বাড়বে।”
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মো. ফখরুল আলম বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগরী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। গত ২১ জানুয়ারি খাদ্য উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে সার্কিট হাউসে সিটি মেয়র দেখা করে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ওএমএস ডিলার ৮২ জন (প্রতি ওয়ার্ডে ২ জন করে) করার প্রস্তাব করেছিলেন। মেয়র সাহেবের প্রস্তাবে খাদ্য উপদেষ্টা মহোদয় সম্মত হয়েছেন। ওএমএস ডিলার বাড়লে বরাদ্দও বাড়বে।”
ওএমএস ডিলার এবং বরাদ্দ দ্বিগুণ করার এই সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।