সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

নাহিদ ইসলাম হচ্ছেন নতুন দলের আহ্বায়ক, ঘোষণা চলতি মাসেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলের নাম চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত হতে পারে। মো. নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিয়ে নতুন দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এ মাসের শেষ সপ্তাহে (২৫শে ফেব্রুয়ারির আগে বা পরে) দলটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নাহিদ ইসলাম চলতি সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে সরকার থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারে থাকছেন। তারা এখনই নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন না।

দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ (সদস্যসচিব) নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই পদের জন্য জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নাম আলোচিত হচ্ছে।

১৫ থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে নাগরিক কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। নতুন দলের যাত্রা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে হতে পারে।

শীর্ষ দুটি পদের বাইরে অন্যান্য পদে নিজেদের পছন্দের নেতাদের বসানোর জন্য নাগরিক কমিটির বিভিন্ন অংশ তৎপর রয়েছে।

নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, শীর্ষ পদে নাহিদ ইসলাম সবার পছন্দ।

জনমত জরিপে উঠে আসছে নতুন দলের নাম ও প্রত্যাশা:

নতুন দলের বিষয়ে জনমত জরিপ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই জরিপ অনলাইন এবং জেলায় জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জরিপে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়েছেঃ
১. আপনার মতে কোন তিনটি কাজ করলে দেশ বদলে যাবে?
২. নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে আপনার জীবনের কোন সমস্যার সমাধান চান?
৩. নতুন দলের কাছে আপনি কী প্রত্যাশা করেন?
৪. দলের নাম কী হতে পারে?
৫. দলের মার্কা (প্রতীক) কী হতে পারে?

নাগরিক কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, জরিপে প্রায় দুই লাখ মানুষ সাড়া দিয়েছেন এবং বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেছেন। সাধারণ কি-ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ‘গণতন্ত্র’, ‘নাগরিক’, ‘জাস্টিস’ ও ‘বৈষম্যবিরোধী’ শব্দগুলো বেশি এসেছে। মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই দলের নাম চূড়ান্ত করা হবে।

মুখপাত্র সামান্তা শারমিন জানান, এই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই যেকোনো দিন দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের কথা ভাবা হচ্ছে।

তরুণদের রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগকে বিএনপি স্বাগত জানালেও, রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক সহায়তা নিলে জনগণকে হতাশ করবে বলে মন্তব্য করেছে।

নাগরিক কমিটির নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, উপদেষ্টাদের কেউ নতুন দলে এলে পদত্যাগ করেই আসবেন। অন্তর্বর্তী সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১লা জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়, যা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটায়।

নতুন ছাত্রসংগঠন তৈরির পরিকল্পনা:

নতুন দল গঠনের পাশাপাশি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা একটি নতুন ছাত্রসংগঠন তৈরির কথাও ভাবছেন, যা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে হবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মটি গণ-অভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকবে। নতুন ছাত্রসংগঠন তৈরির বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে এবং নাম চূড়ান্ত হয়নি।

পাঠকপ্রিয়