মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

রমজানকে ঘিরে বাজারে স্বস্তির বাতাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র রমজান মাস আসন্ন। এ উপলক্ষে দেশে ভোগ্যপণ্যের আমদানি স্বাভাবিক গতিতে চলছে। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টন পণ্য দেশে পৌঁছেছে এবং পাইপলাইনে আরও বিপুল পরিমাণ পণ্য রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে বহু ভোগ্যপণ্যবাহী জাহাজ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি খরচ বাড়লেও রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। রমজানে সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, রমজানকে সামনে রেখে তিন মাস আগে থেকেই পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ডলার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুরুতে আমদানি কিছুটা ব্যাহত হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় তা আবার গতি পায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য খালাস হয়েছে। কাস্টমস সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ, ডাবলি বুট, ছোলা, মসুর ডাল, খেজুর, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল ও চিনি আমদানি করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজ, ডাবলি বুট, মসুর ডাল, খেজুর ও সয়াবিন তেলের আমদানি বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানের জন্য পর্যাপ্ত পণ্যের মজুদ রয়েছে এবং বিক্রিও স্বাভাবিকভাবে চলছে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে পণ্য সরবরাহ হচ্ছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দাম কিছুটা বাড়লেও তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানিয়েছেন, বাজারে পণ্যের কোনো সংকট নেই এবং দামও কমছে। মটর, ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির দাম কমেছে। তিনি আরও বলেন, পণ্যের যোগান এবং সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকায় রমজানের বাজার নিয়ে অস্থিরতা তৈরির কোনো শঙ্কা নেই।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ট্রেড এসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ জানান, প্রচুর পণ্য আমদানি হয়েছে এবং পাইপলাইনেও রয়েছে। তেল ছাড়া বাকি পণ্যের যোগান স্বাভাবিক ও বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি ক্রেতাদের একসঙ্গে পুরো মাসের পণ্য না কেনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

বিডব্লিউটিসিসি’র নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জি এম খান জানান, প্রচুর ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমাণ মটর, ছোলা, ডাল জাতীয় পণ্য এবং চিনি মাদার ভ্যাসেল থেকে খালাস করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানিয়েছেন, রমজান উপলক্ষে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক গতিতে চলছে এবং দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রমজানে মানুষের ভোগান্তি নিরসনের আশ্বাস দেন এবং কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

পাঠকপ্রিয়