মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

হাতি আতঙ্কে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর দুই লক্ষাধিক মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দুই লক্ষাধিক মানুষ এখন আতঙ্কিত জীবন যাপন করছেন। গত তিনদিনে হাতির আক্রমণে দুই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন এবং তিনটি দোকান ও একটি এগ্রো খামার তছনছ হয়েছে। কেইপিজেড শিল্প জোনে হাতির পাল তাণ্ডব চালিয়েছে, ভেঙে ফেলেছে গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে ৩০ হাজার শ্রমিক কর্মচারীর জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক দশক ধরে হাতিগুলো প্রায়ই লোকালয়ে এসে ফসল ও বসতির ক্ষতি করে। প্রশাসনের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। হাতির আক্রমণে স্বজন হারানো মানুষজনের কাছে হাতিগুলো সাক্ষাৎ যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে ঘুমালেও তারা হাতির আক্রমণের দুঃস্বপ্ন দেখেন।

আহত ব্যবসায়ীরা হলেন বৈরাগ ইউনিয়নের দেওয়ান বাজার এলাকার নুরুল আবছার (৫৮) ও মুহাম্মদপুর গ্রামের ছবেদুল হক (৬০)। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত মঙ্গলবার রাতে বৈরাগের দেওয়ান বাজারে হাতি আক্রমণ চালিয়ে তিনটি দোকান ভাঙচুর করে এবং আল্লাহর দান এম এম এগ্রো খামারে তাণ্ডব চালায়। খামারের মালিক মঈন উদ্দীন জানান, হাতির দল তার খামারের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

এছাড়াও, গত তিনদিন ধরে হাতিগুলো কেইপিজেডে তাণ্ডব চালিয়ে শিল্প কারখানা, সবুজায়ন প্রকল্প, গাছপালা ও সবজি ক্ষেত বিনষ্ট করেছে। সন্ধ্যায় হাতিগুলো সড়কে নেমে আসায় কেইপিজেডের শ্রমিক কর্মচারীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান জানান, গত ৭/৮ বছর ধরে হাতিগুলো শিল্প জোনে তান্ডব চালাচ্ছে। তারা কারখানার বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি মূল্যবান গাছপালাও নষ্ট করছে। হাতির আক্রমণে কেইপিজেডে কর্মরত কয়েকজন কোরিয়ান বিনিয়োগকারী ও শ্রমিক কর্মচারী আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, হাতিগুলোর আক্রমণ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে ২০টির বেশি চিঠি দিয়েছেন।

বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বলেন, গত ১০/১১ বছর ধরে হাতিগুলো সন্ধ্যায় এলাকায় এসে তাণ্ডব চালায়। মানুষ আহত ও নিহত হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত তিনদিন ধরে হাতিগুলো এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে, মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

বৈরাগের বাসিন্দা আকতার (৫৫) জানান, হাতির আক্রমণে তার স্ত্রী মারা গেছেন। হাতি দেখলে তার কাছে যমদূত মনে হয়।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, বন্য হাতিগুলো দেয়াং পাহাড়ে ও কেইপিজেডে অবস্থান নিয়ে প্রতিদিনই তাণ্ডব চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে বন বিভাগ ছাড়া পুলিশের তেমন কিছু করার থাকে না।

পাঠকপ্রিয়