সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

নিজস্ব অর্থায়নে অপারগ সিডিএ, চট্টগ্রাম কি ডুববেই?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সহযোগিতায় চলমান এই প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, বর্ধিত ব্যয়ের ৫০ শতাংশ (১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা) সরকারি অনুদান হিসেবে পাওয়া গেলেও, বাকি ৫০ শতাংশের অর্ধেক (৭৫৩ কোটি টাকা) সরকারি ঋণ এবং বাকি অর্ধেক সিডিএ-র নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়ার কথা। তবে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম জানিয়েছেন, এই পরিমাণ অর্থ নিজস্ব তহবিল বা ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করার সক্ষমতা সিডিএ-র নেই।

সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্পের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও কাজ চলমান রাখার স্বার্থে অর্থ বিভাগের শর্ত মেনে সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন না হলে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতার কবল থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হবে না। তাই সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকল্প ব্যয়ের ২৫ শতাংশ (৭৫৩ কোটি টাকা) জিওবি ঋণ এবং সিডিএ-র নিজস্ব অর্থায়নের ২৫ শতাংশ (৭৫৩ কোটি টাকা) পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ অর্থ জিওবি অনুদান হিসেবে বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায়, ভূমি অধিগ্রহণ ও ভৌত নির্মাণ কাজসহ প্রায় ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার কাজ অসমাপ্ত রেখে প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি, দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ বা নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই। মন্ত্রণালয় থেকে কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা আমরা পাঠিয়েছি। আশা করছি মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পাবো।”

এই পরিস্থিতিতে, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নিতে হলে সিডিএ-কে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

নিজস্ব অর্থায়নে অপারগ সিডিএ, চট্টগ্রাম কি ডুববেই?

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪:০৭

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সহযোগিতায় চলমান এই প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, বর্ধিত ব্যয়ের ৫০ শতাংশ (১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা) সরকারি অনুদান হিসেবে পাওয়া গেলেও, বাকি ৫০ শতাংশের অর্ধেক (৭৫৩ কোটি টাকা) সরকারি ঋণ এবং বাকি অর্ধেক সিডিএ-র নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়ার কথা। তবে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম জানিয়েছেন, এই পরিমাণ অর্থ নিজস্ব তহবিল বা ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করার সক্ষমতা সিডিএ-র নেই।

সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্পের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও কাজ চলমান রাখার স্বার্থে অর্থ বিভাগের শর্ত মেনে সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন না হলে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতার কবল থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হবে না। তাই সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকল্প ব্যয়ের ২৫ শতাংশ (৭৫৩ কোটি টাকা) জিওবি ঋণ এবং সিডিএ-র নিজস্ব অর্থায়নের ২৫ শতাংশ (৭৫৩ কোটি টাকা) পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ অর্থ জিওবি অনুদান হিসেবে বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায়, ভূমি অধিগ্রহণ ও ভৌত নির্মাণ কাজসহ প্রায় ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার কাজ অসমাপ্ত রেখে প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি, দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ বা নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই। মন্ত্রণালয় থেকে কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা আমরা পাঠিয়েছি। আশা করছি মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পাবো।”

এই পরিস্থিতিতে, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নিতে হলে সিডিএ-কে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।