চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরা যাত্রীদের জন্য দেখা দিয়েছে তীব্র ফ্লাইট সংকট। বছরখানেক আগেও এই বিমানবন্দর থেকে ছয়টি এয়ারলাইন্স ওমরা হজ যাত্রীদের পরিবহন করত। তবে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায়, যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই এই সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রমজান মাসে ওমরা যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা অনেক কম। হজ্জ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) চট্টগ্রাম জোনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, যাত্রীদের তুলনায় ফ্লাইট প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়ে কেউ নজর দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীরা টিকেট পেতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং টিকেটের দামও আকাশ ছোঁয়া।
যাত্রী ও এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ওমরা করতে যান। আগামী মার্চের শুরুতেই রমজান মাস শুরু হবে। এই সুযোগে কিছু অসাধু কর্মকর্তা সিন্ডিকেট করে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দেড় থেকে দুইশ’ মার্কিন ডলার দাম বাড়ানো হয়েছে।
এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব) চট্টগ্রাম জোনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ফ্লাইট বৃদ্ধির জন্য আরও তিন মাস আগে আটাবের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিমান বাংলাদেশ চাইলে এই রুটে আরও দুই-তিনটি ফ্লাইট বাড়াতে পারে।
এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা এবং এজেন্সি মালিকরা। তারা বলছেন, ফ্লাইট সংখ্যা না বাড়ালে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং টিকেট মূল্যও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।