মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দিনের পর দিন নিলাম, তবুও বিক্রি হয় না: আইন সংশোধনের পথে চট্টগ্রাম কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য পণ্য সরাতে এবার নিলাম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে নিলাম আইনের কিছু ধারা সংশোধনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম কাজে আইনি জটিলতা কমে কাজের গতি বাড়বে। পাশাপাশি বন্দরের অভ্যন্তরে বছরের পর বছর ধরে পণ্য পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে।

নিয়ম অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না হলে সেটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার আওতায় চলে যায়। সেখানেও জরিমানা দিয়ে আমদানিকারক চাইলে আবেদন করে পণ্য খালাস নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু এরপরও পণ্য খালাস না হলে সেটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হয়।

তবে মামলা জটিলতা থাকলে কোনো কোনো পণ্য নিলামেও তোলা যায় না। আর নিলামে তোলা হলেও আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত দর না উঠলে সেটি বিক্রিও করতে পারে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফলে বন্দরেই পড়ে থেকে পণ্য নষ্ট হয়।

বন্দরে যেমন অনেক মূল্যবান পণ্য থাকে, তেমনি অনেক কম দামি পণ্যও থাকে। যা বারবার নিলামে তুলতে হয় শুধু নিলাম আইনের কারণে।

শ্রীলংকায় তৈরি এফ-টেক ব্রান্ডের ২৬ কেজি জুতার গাম ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ৪ হাজার ৬৭৩ টাকা সংরক্ষিত মূল্যের ওই গাম ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ বছরে মোট ২৬ বার নিলামে তোলা হলেও বিক্রি হয়নি।

একইভাবে, ১৮০ গ্রাম ওজনের ১০ পিস পেন্সিল ব্যাটারি দুই বছরে ১৯ বার নিলামে তুলেও বিক্রি করা যায়নি।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ঘন ঘন নিলামে তোলার কারণে তাদের কাজের গতি কমে যাচ্ছে। তাই এবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. সাকিব হোসেন জানান, নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), অর্থ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়ম সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ৫০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিলামের কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পণ্য তালিকাভুক্তকরণ ও দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে কাজ করবেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রথম নিলামে সংরক্ষিত মূল্য (আমদানি মূল্য ও শুল্ককর) ৬০ শতাংশের কম দামে পণ্য বিক্রি করা যায় না। ফলে অনেক ক্রেতাই দ্বিতীয় বা তৃতীয় নিলামের জন্য অপেক্ষা করেন, যেন দাম কমে আসে। এতে প্রতিটি নিলামে তিন থেকে সাত দফা দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তত ৯ মাস থেকে এক বছর সময় লেগে যায়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ৬০ শতাংশ সংরক্ষিত মূল্য শর্ত শিথিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন দ্রুত নিষ্পত্তি করা ও স্পট নিলাম চালু করার বিষয়েও কাজ চলছে, যেন দ্রুত ক্রেতা পাওয়া যায়।

এছাড়া, সরকারি-বেসরকারি সর্বোচ্চ দরদাতা নির্দিষ্ট আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও নিলামে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে বলে জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা।

পাঠকপ্রিয়