মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

রোজার আগে চট্টগ্রামে সয়াবিন তেল উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোজার ঠিক আগ মুহূর্তে চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও, সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর প্রধান বাজারগুলোসহ পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নগরীর বৃহত্তর বাজার রেয়াজউদ্দিন বাজার, কাজীর দেউরি বাজার এবং বিভিন্ন এলাকার দোকান ঘুরে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংকট গত কয়েকদিনে আরও প্রকট হয়েছে। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ বন্ধ রাখায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের তামিম জেনারেল স্টোরের দোকানি কামাল হোসেন বলেন, “এক মাস ধরে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানিগুলো তেল দিচ্ছে না। ক্রেতাদের কাছ থেকে রশিদ কেটে রাখলেও তেল দিতে পারছি না।” তিনি আরও জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেক দোকানি জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে, সীমিত সংখ্যক তেল শুধুমাত্র নিয়মিত গ্রাহকদের কাছেই বিক্রি করতে পারছেন।

কাজীর দেউরি বাজারের খান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক আব্দুস সাত্তারও জানান, তেল সংকটের কারণে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।

সকালে রেয়াজউদ্দিন বাজারে তেল কিনতে আসা সোহেল চৌধুরী নামের এক ক্রেতা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “প্রতি বছর রোজার আগে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ে। এবার সবকিছুর দাম স্বাভাবিক থাকলেও তেলের এই সংকট ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এটি কৃত্রিম সংকট কিনা, তা সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত।”

নালাপাড়া এলাকার এক দোকানি জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা প্যাকেটজাত তেল পাচ্ছেন না। বোতলজাত তেলের সরবরাহও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

এদিকে, সয়াবিন তেলের সংকটের মধ্যে ছোলার দাম স্বাভাবিক রয়েছে। রেয়াজউদ্দিন বাজারে ছোলা মানভেদে ১০৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সবজির দামও রয়েছে নিয়ন্ত্রণে। শসা ৩৫-৪০ টাকা, বেগুন ৩০-৫০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, ধনিয়া পাতা ৪০ টাকা এবং পুদিনা পাতা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে, যা কেজি প্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ২৫ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা এবং বাঁধাকপি ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে, রেয়াজউদ্দিন বাজারের বাইরের বাজারগুলোতে আলু ও টমেটো বাদে অন্যান্য সবজি কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, গরুর মাংস হাড় ছাড়া ৯৫০ টাকা এবং হাড়সহ ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

লেবুর চড়া দাম:

সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও লেবুর দাম আকাশছোঁয়া। ক্রেতারা জানান, সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে হালিতে ২০ টাকায় লেবু পাওয়া যেত, এখন তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। রেয়াজউদ্দিন বাজারে আকারভেদে প্রতি ডজন লেবু ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাঠকপ্রিয়