চট্টগ্রাম নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবন প্রাঙ্গণে শেষবারের মতো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের প্রতি। শুক্রবার সকাল ১১টায় নিথর দেহে নিজের প্রিয় প্রাঙ্গণে ফিরে আসেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে নাসিমন ভবনে ঢল নামে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের।
ফুলে ঢেকে যায় নোমানের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি। আবেগে আপ্লুত হন অনেকেই। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকরসহ দলীয় ও জামায়াত নেতারা শ্রদ্ধা জানান।
নগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “নোমান ভাই ছিলেন গণমানুষের নেতা। তার হাত ধরেই হাজারো কর্মী দলে যুক্ত হয়েছেন। জাতির এই দুঃসময়ে তার চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।”
নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান বলেন, “বাবাকে আমরা রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই বেশি দেখেছি। তিনি গতানুগতিক রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন মানুষের মাঝে বন্ধু। আত্মনিবেদন ও সততার সঙ্গে মানুষের সেবা করায় আজ সবাই তাকে শ্রদ্ধা করছেন।”
বেলা সাড়ে ১২টায় নাসিমন ভবন থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি জমিয়তুল জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের দিকে রওনা হয়। সেখানে জানাজার নামাজ শেষে রাউজানের গহিরা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এর আগে সকালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
১৯৪৫ সালে রাউজানের গহিরা গ্রামে জন্ম নেওয়া নোমান ছাত্রজীবনে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে কারাবরণ করেন। মওলানা ভাসানীর হাত ধরে শ্রমিক রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, পরে ১৯৮১ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারে মন্ত্রীত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার ভোরে ৭৮ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এই জনপ্রিয় নেতা। তার প্রয়াণে বিএনপি ও চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে শূন্যতা।