সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

রমজানে পুদিনা চাষে কৃষকের মুখে হাসি

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে চন্দনাইশে বেড়েছে পুদিনা পাতার চাহিদা। ইফতারির অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাজারে এখন পুদিনা পাতার দাম চড়া। এতে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার গাছবাড়িয়া বুলারতালুক এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা দল বেঁধে ক্ষেত থেকে পুদিনা পাতা তুলছেন। রমজানের প্রথম দিন থেকেই বাজারজাত করার লক্ষ্য তাদের। চাষি মো. আরিফুল ইসলাম খোকন ও মোহাম্মদ ইদ্রিচ জানান, তারা অন্যান্য সবজির পাশাপাশি রমজান মাসকে সামনে রেখে পুদিনা পাতার চাষ করেছেন। চলতি বছর আরিফুল ৫ গন্ডা এবং ইদ্রিস প্রায় ২ কানি জমিতে পুদিনা চাষ করেছেন। তাদের মতে, প্রতি গন্ডা জমিতে পুদিনা চাষে খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। আর প্রতি গন্ডা থেকে ১০০ কেজির বেশি পাতা বিক্রি করা যায়, যা থেকে গন্ডা প্রতি ৫ হাজার টাকার বেশি লাভ থাকে।

রমজান মাসে বড়া, চাটনি, সালাদ, বোরহানি, চা এবং শরবতসহ বিভিন্ন খাবারে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। ফলে এ সময় বাজারে পুদিনার চাহিদা থাকে ব্যাপক। চাষিরাও পুদিনা গাছের পরিচর্যা ও পাতা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমনকি এলাকার শিশু-কিশোরদেরও দেখা যায় পাড়ায় পাড়ায় পুদিনা পাতা বিক্রি করতে।

বুলার তালুক এলাকার আরেক কৃষক আবদুল খালেক জানান, তিনি চলতি বছর ২ কানি জমিতে পুদিনা চাষ করেছেন। রমজানের শুরুতে চাহিদা বেশি থাকলেও মাঝখানে কিছুটা কমে যায়। তবে শেষ দিকে আবার চাহিদা বাড়ে।

কৃষকরা জানান, তারা সকালে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনের পাইকারি সবজি বাজারে পুদিনা পাতা নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা পুদিনা কিনে নিয়ে যান। এছাড়া স্থানীয় বাজারেও খুচরা বিক্রি করেন তারা।

চন্দনাইশ কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবাকর দাশ জানান, চলতি রমজানকে সামনে রেখে উপজেলার দোহাজারী, বৈলতলী ও হাশিমপুর এলাকায় ব্যাপক পুদিনা পাতার চাষ হয়েছে। পুরো উপজেলায় ২০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পুদিনার চাষ হয়েছে। রমজানে চাহিদা বাড়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে পুদিনা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

রমজানে পুদিনা চাষে কৃষকের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মার্চ ২০২৫, ১১:৩৮

মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে চন্দনাইশে বেড়েছে পুদিনা পাতার চাহিদা। ইফতারির অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাজারে এখন পুদিনা পাতার দাম চড়া। এতে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার গাছবাড়িয়া বুলারতালুক এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা দল বেঁধে ক্ষেত থেকে পুদিনা পাতা তুলছেন। রমজানের প্রথম দিন থেকেই বাজারজাত করার লক্ষ্য তাদের। চাষি মো. আরিফুল ইসলাম খোকন ও মোহাম্মদ ইদ্রিচ জানান, তারা অন্যান্য সবজির পাশাপাশি রমজান মাসকে সামনে রেখে পুদিনা পাতার চাষ করেছেন। চলতি বছর আরিফুল ৫ গন্ডা এবং ইদ্রিস প্রায় ২ কানি জমিতে পুদিনা চাষ করেছেন। তাদের মতে, প্রতি গন্ডা জমিতে পুদিনা চাষে খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। আর প্রতি গন্ডা থেকে ১০০ কেজির বেশি পাতা বিক্রি করা যায়, যা থেকে গন্ডা প্রতি ৫ হাজার টাকার বেশি লাভ থাকে।

রমজান মাসে বড়া, চাটনি, সালাদ, বোরহানি, চা এবং শরবতসহ বিভিন্ন খাবারে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। ফলে এ সময় বাজারে পুদিনার চাহিদা থাকে ব্যাপক। চাষিরাও পুদিনা গাছের পরিচর্যা ও পাতা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমনকি এলাকার শিশু-কিশোরদেরও দেখা যায় পাড়ায় পাড়ায় পুদিনা পাতা বিক্রি করতে।

বুলার তালুক এলাকার আরেক কৃষক আবদুল খালেক জানান, তিনি চলতি বছর ২ কানি জমিতে পুদিনা চাষ করেছেন। রমজানের শুরুতে চাহিদা বেশি থাকলেও মাঝখানে কিছুটা কমে যায়। তবে শেষ দিকে আবার চাহিদা বাড়ে।

কৃষকরা জানান, তারা সকালে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনের পাইকারি সবজি বাজারে পুদিনা পাতা নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা পুদিনা কিনে নিয়ে যান। এছাড়া স্থানীয় বাজারেও খুচরা বিক্রি করেন তারা।

চন্দনাইশ কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবাকর দাশ জানান, চলতি রমজানকে সামনে রেখে উপজেলার দোহাজারী, বৈলতলী ও হাশিমপুর এলাকায় ব্যাপক পুদিনা পাতার চাষ হয়েছে। পুরো উপজেলায় ২০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পুদিনার চাষ হয়েছে। রমজানে চাহিদা বাড়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে পুদিনা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।