মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

রমজানে যানজট নিরসনে সিএমপির তিন ধাপের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে নগরীর যানজট নিরসন ও ঈদ কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তিন ধাপের বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এই পরিকল্পনার আওতায় রমজানের প্রথম, মধ্য ও শেষ ভাগের জন্য আলাদা আলাদা কৌশল নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগরীর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ, ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অবৈধ পার্কিং, মোড়ে মোড়ে অবৈধ রিকশা-ট্যাক্সি-বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল, এবং স্বল্পগতির গাড়ির বেপরোয়া চলাচল। ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় যেমন – ষোলশহর ২ নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, লালখান বাজার, টাইগারপাস, কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, রিয়াজুদ্দীন বাজার, স্টেশন রোড, কদমতলী, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, সল্টগোলা ক্রসিং, জাকির হোসেন রোড, ও আর নিজাম রোড, প্রবর্তক মোড় এবং মেডিকেলের সামনের রাস্তাসহ প্রায় প্রতিটি সড়কেই যানজট দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, চালকদের অসচেতনতা এবং “কে কার আগে যাবে” এমন প্রতিযোগিতার মানসিকতার কারণে যানজট আরও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অপ্রতুল লোকবলের কারণে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শহরের চারটি ট্রাফিক জোনে প্রায় ৯০০ পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

রমজান মাসে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা নগর পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে রোজাদারদের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার জয়নুল আবেদীন জানান, রমজান উপলক্ষ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য তিন ধাপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের ৯০০ সদস্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩০০ সদস্য মোতায়েন করা হবে। মার্কেটকেন্দ্রিক যানজট কমাতে পুলিশের সাথে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন এবং মার্কেটগুলোর পার্কিং উন্মুক্ত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রমজান মাসে দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে জরুরি পণ্যবাহী, বন্দরকেন্দ্রিক, ওষুধবাহী এবং ভোগ্যপণ্যবাহী গাড়ির জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়াও, ট্রাফিক পুলিশের সাথে ক্রাইম বিভাগের সদস্যরাও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করবেন।

পাঠকপ্রিয়