মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

বৈশ্বিক সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা, ডলার সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছুকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে লেগেছে সুবাতাস। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই সময়ে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮.৯৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৬৮ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৪.৪৪ বিলিয়ন ডলার। তৈরি পোশাক খাত এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২৩.৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৮১.২৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, ইউক্রেন-রাশিয়া ও গাজা-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধ, ভারত-চীনের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক—এসব বৈশ্বিক অস্থিরতা বিশ্ববাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশেও ডলার সংকট, ব্যাংকগুলোর দুরবস্থা, মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা বিদ্যমান। বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও অর্থনীতিতে ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব। এত কিছুর পরও রপ্তানি খাতের এই অগ্রগতি দেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা।

রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমেও গতি এসেছে। সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৬৫ হাজার ৪৫০ টিইইউএস কন্টেইনার পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার টিইইউএস বেশি। জানুয়ারি মাসে এই বন্দর দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয় ৭৫ হাজার ২৩৪ টিইইউএস রপ্তানি পণ্য। বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের এই ঊর্ধ্বগতি নতুন মাইলফলক সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বন্দরের কার্যক্রম ক্রমাগত বাড়ছে এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে চট্টগ্রাম বন্দর অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের এই অগ্রগতি দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। তৈরি পোশাক খাতের এই সাফল্য এবং আমদানি স্থিতিশীল থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শিল্পের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা দেশের অর্থনীতিকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকপ্রিয়