চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও সিএমপি’র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নগরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অবাধে চলাচল করছে এসব রিকশা। এতে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
গতকাল সন্ধ্যায় নগরের চকবাজার গুলজার মোড় থেকে প্যারেড মাঠ সংলগ্ন কেয়ারি ইলিশিয়াম মার্কেট পর্যন্ত সড়কের (গুলজার থেকে কেয়ারিমুখী অংশ) একপাশে ১১টি ব্যাটারিচালিত রিকশা যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেয়ারির সামনেও ছিলো অনেকগুলো রিকশা। সড়ক দখল করে রিকশা রাখায় যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এটি এ সড়কের প্রতিদিনকার চিত্র।
প্রায় তিন মাস আগে চসিক ও সিএমপি’র যৌথ বৈঠকে নগরের প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব সড়কে এসব রিকশা চলতে পারবে না তার একটি তালিকাও তৈরি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২ টাইগারপাস চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু বৈঠকের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। চসিক সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক বিভাগের চারটি জোন ভাগ করে তৈরি করা তালিকায় রয়েছে – ট্রাফিক উত্তর জোনের কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট হয়ে দামপাড়া পুনাক ক্রসিং, ষোলশহর ২নং গেইট থেকে প্রবর্তক মোড় ও গোলপাহাড় হয়ে জিইসি, জাকির হোসেন রোডে ওয়ারলেস মোড় থেকে জিইসি মোড়।
ট্রাফিক দক্ষিণ জোনের আওতাভুক্ত সড়কের মধ্যে রয়েছে – দামপাড়া পুনাক থেকে টাইগারপাস হয়ে নিউ মার্কেট কোতোয়ালী, নিউ মার্কেট থেকে জুবিলি রোড কাজীর দেউড়ি, আলমাস হয়ে ওয়াসা মোড়, লালখান বাজার থেকে জামাল খান হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়, গনি বেকারি মোড় হয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, কেয়ারি মার্কেট, গুলজার মোড়, অলি খাঁ মোড়, চট্টগ্রাম মেডিকেল জরুরি বিভাগের গেইট।
ট্রাফিক পশ্চিম জোনের সড়কের মধ্যে রয়েছে – দেওয়ানহাট হতে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়, এঙেস রোড, ডি টি রোড এবং বন্দর জোনের বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে সল্টগোলা ক্রসিং, কর্ণফুলী টানেল গোল চত্বর, আকমল আলী রোডের মাথা এবং লিংক রোডের প্রধান সড়ক।
গত তিনদিনে নগরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রায় প্রতিটি সড়কেই ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। রাস্তার মাথা থেকে সিএন্ডবি, বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট, গুলজার মোড় থেকে চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে গণি বেকারি, আন্দরকিল্লা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এসব রিকশার আধিক্য দেখা গেছে। চকবাজার থেকে আন্দরকিল্লা পর্যন্ত সিরাজদ্দৌলা রোডের যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
দুই নম্বর গেটে কথা হয় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক সজীবের সঙ্গে। তিনি জানান, কোন কোন সড়কে চলতে পারবে না, সে বিষয়ে তার ধারণা নেই। তবে প্রধান সড়কে চালালে পুলিশ জরিমানা করে বলে তিনি জানান। জামালখান মোড়ে আরেক রিকশাচালক ইসকান্দর বলেন, পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে রিকশা চালান, পুলিশ ধরলে জরিমানা দিয়ে আবার ছাড়িয়ে আনেন।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা মূল সড়কে চলতে পারবে না – এমন নির্দেশনা আছে। অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসি ট্রাফিককে বলা হবে। ট্রাফিক বিভাগকে মূল সড়কে এসব রিকশা দেখলে জব্দ এবং শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের মোবাইল টিম জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।