দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ) জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থার অবসান হতে চলেছে। ২০১০ সাল থেকে মামলা জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল, কিন্তু সম্প্রতি মন্ত্রণালয় সিডিএকে পুনরায় নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সিডিএর কাজের পরিধি ক্রমশ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে জনবল বাড়েনি। বরং কমেছে। ১৯৮৪ সালের পুরনো জনবল কাঠামো দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল, যেখানে ৫১৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৯৪টি পদই শূন্য। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের এই শূন্যপদগুলো সেবার মানকে ব্যাহত করছিল। ফলে, সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেলেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কোনো বাধা থাকবে না। প্রথমে অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। এরপর শূন্য থাকা পদগুলোতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জনবল নিয়োগ করা হবে।
বর্তমান কাজের পরিধি বিবেচনায় সিডিএ-তে প্রায় দেড় হাজার জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। তাই প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জনবল কাঠামো পরিবর্তন করে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
২০১০ সালে একবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও সিডিএরই এক সাবেক কর্মকর্তার মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে যায়। ২০২১ সালে মামলাটি খারিজ হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়নি, যা মন্ত্রণালয়ের অসন্তোষের কারণ হয়েছিল। এখন নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জনবল সংকট কাটিয়ে উঠে সিডিএ-র কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।