চট্টগ্রাম ওয়াসা গত ১৫ বছরে বেশ কয়েকটি পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম ফজলুল্লাহর সময়ে ১০টি প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। ওয়াসা দাবি করে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নগরীর ৯০ শতাংশ মানুষ পানি পাচ্ছে। তবে, এই দাবির সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচের পরও এখনো নগরীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ওয়াসা পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। চলতি মৌসুমে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পানির সংকট আরও বেড়েছে। সরবরাহ লাইনে সমস্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানি ওয়াসা’র প্রধান উৎস। হালদায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কর্ণফুলী নদীতেও পানির প্রবাহ কমেছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে দৈনিক পানির চাহিদা ৫৮ কোটি লিটার, তবে উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ কোটি লিটার। গ্রাহকদের মধ্যে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার সরবরাহ করা হলেও বাকিটা ‘নন রেভিনিউ ওয়াটার’ হিসেবে ধরা হয়।
ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এমডি পদে ছিলেন একেএম ফজলুল্লাহ। তার সময়ে নেওয়া ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টির কাজ শেষ হয়েছে, ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। চলমান দুটি প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। এত প্রকল্পের পরও পানির সংকট না কাটায় ওয়াসার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াসা দাবি করছে, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ চালু হলে শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে, ৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প গত বছরের জুনে শেষ হলেও এখনো ৯০ শতাংশ মানুষ পানির আওতায় আসেনি।
একেএম ফজলুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ার পর ওয়াসা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ঢাকতেই আগুন লাগানো হয়েছিল। আরও অভিযোগ, এমডির প্রশ্রয়ে ওয়াসায় নিয়োগ ও পদোন্নতির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।
বর্তমানে নগরীতে ৭৮ হাজার ৫৪২টি আবাসিক এবং ৭ হাজার ৭৬৭টি বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে। ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হলেও অনেক এলাকায় সংযোগ পৌঁছায়নি। পানি সংকটের প্রতিবাদে গ্রাহকেরা ওয়াসা অফিস ঘেরাও করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেও পানির সংকট সমাধানে ব্যর্থ। ৯০ শতাংশ গ্রাহক পানি পাচ্ছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।