মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভবন নির্মাণের জন্য কাটা হলো ৯৭টি গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএফআরআই) নতুন আগর গবেষণাগার ভবন নির্মাণের জন্য ছোট-বড় ৯৭টি গাছ কাটা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই গাছ কাটা চলে, যা গতকাল সোমবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

পরিবেশকর্মীদের আপত্তি সত্ত্বেও বিএফআরআই কর্তৃপক্ষ গাছ কাটা অব্যাহত রেখেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছ কাটার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই অনুমোদন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়নি।

বিএফআরআই নগরের মুরাদপুরে ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরে ৫৮ শতক জায়গায় ছয়তলা ভবন নির্মাণ করছে। ‘সম্পূর্ণ বৃক্ষে উন্নতমানের আগর রেজিন সঞ্চয়ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রকল্প’-এর আওতায় এই গবেষণাগার নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুনে একনেকের অনুমোদন পায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিএফআরআই ফটকের পাশে টিনের ঘেরাও দিয়ে গাছ কাটা হচ্ছিল। কাটা গাছ ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। তখনও একটি বৈলাম গাছ এবং একটি ইউক্যালিপটাস গাছের ডালপালা ছেঁটে কাটার প্রস্তুতি চলছিল।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসাইন জানান, সব অনুমোদন নিয়েই প্রকল্পের কাজ চলছে। কাটা গাছের মধ্যে বেশিরভাগই পরিপক্ব ইউক্যালিপটাস ও মেহগনি গাছ। তিনি আরও জানান, এর পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে এবং বর্ষা মৌসুমে এখানে নতুন গাছ লাগানো হবে।

তবে, বন বিভাগ নিজে গাছ কাটলে সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছ কাটার প্রবণতা বাড়বে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জাকির হোসাইন বলেন, কাটা গাছের পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে অনুমোদনের পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং জায়গা বুঝিয়ে দিতে দেরি হয়। সাবেক পরিচালকের আপত্তির মূল কারণ ছিল প্রকল্প এলাকার গাছগুলো। অবশেষে ২০২৩ সালের ৪ জুলাই জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর গাছ কাটার অনুমোদনের জন্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে আবেদন করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর উত্তর বন বিভাগ গাছ কাটার অনুমোদন না দিয়ে কেবল গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়।

উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম কায়চার জানান, তারা গাছ কাটার অনুমোদন দেননি, কেবল ৭৭টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, গাছ কাটার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন, যা জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটিতে প্রেরণ করতে হয়। কিন্তু সেরকম কিছু তারা পাননি।

এরপর বিএফআরআইয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটিও গাছ কাটার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়নি। পরবর্তীতে বিএফআরআইয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সাত সদস্যের আরেকটি কমিটি ৬ ফেব্রুয়ারি সভা করে গাছ কাটার অনুমোদন দেয়।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মো. আহসানুর রহমান ও সদস্য সচিব রবিউল আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্প পরিচালক জাকির হোসাইন বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি গাছ কাটার অনুমোদন দিয়েছে।

কাটা গাছের মধ্যে ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, তেলসুর, ঢাকিজাম, কদম, রক্তন, জারুল, বক্স বাদাম, জংলি বাদাম, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া ও ছাতিম গাছ রয়েছে। অপ্সরী টিম্বার নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় এসব গাছ কিনে নেয়।

সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সংগঠক রিতু পারভীন গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, বন রক্ষক যদি গাছ ধ্বংস করে, তাহলে প্রতিবাদের জায়গা থাকে না।

পাঠকপ্রিয়