মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম নগরীর ৩৪% যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিতে পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী ৩৪ শতাংশ যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করছে। সম্প্রতি জন্স হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট (জেএইচআই-আইআরইউ) এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতিসীমা অমান্যকারীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে জিপগাড়ি বা এসইউভি, মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট কার।

বুধবার (১৯ মার্চ) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সম্মেলন কক্ষে ‘সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি বিষয়ক পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ এসইউভি, ৪৫ শতাংশ মোটরসাইকেল এবং ৪১ শতাংশ প্রাইভেট কার নির্ধারিত গতিসীমার বাইরে চলাচল করছে। এছাড়াও, ৩২ শতাংশ পিকআপ, ৩১ শতাংশ থ্রি-হুইলার, ২৮ শতাংশ মিনিবাস, ২৭ শতাংশ ট্রাক এবং ২৬ শতাংশ বাসও অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করছে।

প্রতিবেদনটিতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক প্রণীত মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪ বাস্তবায়নের জরুরি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সাথে, সড়ক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গবেষণায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনকালে সিআইপিআরবি’র আরটিআই প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ডা. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী জানান, গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে নগরের ১৫টি স্থানে ৮৪ হাজার ৪৫৪টি যানবাহনের গতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে মহাসড়কে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার এবং শহরের সড়কে ৩০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকারমূলক কাজ। তিনি জানান, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বিআইজিআরএস প্রকল্পের অংশ হিসেবে জেএইচআই-আইআরইউ এবং সিআইপিআরবি ২০২২ সালের মে মাস থেকে চসিক এলাকায় রোডসাইড অবজারভেশন স্টাডি পরিচালনা করে আসছে। গতকাল প্রকাশিত ফলাফলটি ৬ষ্ঠ পর্বের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন।

পাঠকপ্রিয়