সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আটকে আছে নতুন ভবনের উদ্বোধন

দুই বছরেও চালু হয়নি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন, ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটিতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনটির কার্যক্রম দুই বছরেও শুরু হয়নি। এতে করে এলাকার মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং পুরাতন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালটি বর্তমানে ২০০-২৫০ জন রোগীকে সেবা দিচ্ছে। অপ্রতুল শয্যার কারণে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা রোগীর ভোগান্তি বাড়াচ্ছে এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করছে।

২০১৯ সালে হাসপাতালটির পাশেই ১১ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। অত্যাধুনিক এই ভবনে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস, উন্নত ল্যাব ও একাধিক অপারেশন থিয়েটারের সুবিধা থাকার কথা। ২০২৩ সালের শুরুতে ছয় তলার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনে এখনো চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীর কারণে হাসপাতালে বেড পাওয়া যায় না। মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়ায় রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুর্গম এলাকা থেকে আসা রোগীরা উন্নত চিকিৎসার আশায় জেলা সদরের এই হাসপাতালে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শওকত আকবর জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে গড়ে ১৫০-২০০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। সীমিত জায়গার কারণে রোগীদের মেঝেতে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় রোগীদের মানসম্মত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাঙামাটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা জানান, প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবনটি হস্তান্তরের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা জানিয়েছেন, ভবনটি এখনো বুঝে নেওয়া হয়নি। তবে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং শিগগিরই বুঝে নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ে জনবল অনুমোদনের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নতুন ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করা যাবে, যা এলাকার মানুষের জন্য যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

পাঠকপ্রিয়