প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় দশক পর অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একটি কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসকারী ও বিচরণকারী প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সৃষ্ট বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। বর্তমান প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিকটবর্তী এবং শহীদ আব্দুর রব হল, শহীদ ফরহাদ হল ও অতীশ দীপঙ্কর হলের পাশে, ক্যাম্পাসের উত্তর প্রান্তের নিরিবিলি ও বিশাল একটি এলাকাকে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
চবি প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আল আমিন এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি নির্ধারিত স্থানটি পরিদর্শন করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবন, আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার, কলোনি এবং দোকানপাটের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হতো। এতে ক্যাম্পাসের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছিল, যা শিক্ষার্থীসহ সকলের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছিল।
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, “কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকত এবং হোটেল-ক্যাফেটেরিয়াগুলোতেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করত। এই নতুন উদ্যোগে ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং সৌন্দর্যও বাড়বে। এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত স্থানে একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীল বর্জ্য থেকে বিশেষ মেশিনের সাহায্যে জৈব সার উৎপাদন করা হবে। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের সমস্ত প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সিনারেটর মেশিনের মাধ্যমে পুড়িয়ে ফেলা হবে এবং সেই ছাই থেকে সিরামিক জাতীয় বস্তু তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, “আমরা একটি কার্যকর ও আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি। চবি ক্যাম্পাসকে একটি ‘মডেল গ্রিন ক্যাম্পাস’-এ রূপান্তরিত করাই আমাদের লক্ষ্য এবং এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তারই একটি অংশ।”
তিনি আরও জানান, এটি একটি সরকারি প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সাথে আলোচনায় বসা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী মঙ্গলবার একটি সেমিনার আয়োজনের কথাও জানান তিনি।