সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

হস্তান্তরে অবশেষে সম্মত জেলা প্রশাসন

অবহেলা আর অসুস্থতায় বিপন্ন মেঘলার বন্যপ্রাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানের জনপ্রিয় মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের মিনি চিড়িয়াখানায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় থাকা অসুস্থ বন্যপ্রাণীগুলোকে অবশেষে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সম্প্রতি এই সম্মতির কথা জানিয়েছে, যা প্রাণীগুলোর জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিড়িয়াখানাটিতে থাকা দুটি কালো ভালুকের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। পুরুষ ভালুকটির পেছনের বাঁ পা অবশ হয়ে গেছে, সেখানকার লোম উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ক্ষত। দিনের বেশিরভাগ সময় এটি নিস্তেজ অবস্থায় খাঁচার মেঝেতে পড়ে থাকে। অপর স্ত্রী ভালুকটিও অসুস্থ ও ঝিমিয়ে দিন কাটায়।

ভালুকের খাঁচার পাশেই রয়েছে মায়া হরিণের বেষ্টনী। সেখানে থাকা ১৩টি মায়া হরিণের সবকটিই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এবং তাদের মধ্যে স্বাভাবিক চাঞ্চল্য নেই। এর মধ্যে তিনটি হরিণ গুরুতর অসুস্থ এবং যেকোনো সময় মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে হরিণের সংখ্যা ছিল ১৬টি, কিন্তু সম্প্রতি তিনটি মারা যাওয়ায় এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। শুধু তাই নয়, খাঁচায় থাকা ছয়টি বানরও অত্যন্ত শ্রান্ত ও নিস্তেজ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পূর্বে চিড়িয়াখানায় চিত্রা হরিণ এবং অজগর সাপ থাকলেও সেগুলো এখন আর নেই, মারা গেছে।

পর্যটন কেন্দ্রটি পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনকে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট একাধিকবার চিঠি দিয়ে এই প্রাণীগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চিড়িয়াখানায় রাখা প্রাণীগুলো বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী তফসিলভুক্ত এবং লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া এদের আটকে রাখা আইনের পরিপন্থী।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রাণীগুলোকে যে পরিবেশে রাখা হয়েছে, তা তাদের বেঁচে থাকার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়, যার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ আবদুর রহমান সম্প্রতি অসুস্থ ভালুকটি পরিদর্শন শেষে নিশ্চিত করেছেন যে জেলা প্রশাসক প্রাণীগুলো হস্তান্তরে সম্মত হয়েছেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা জানিয়েছেন, অসুস্থ ভালুকের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি করা হচ্ছে না এবং প্রশাসন প্রাণীগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। তিনি মায়া হরিণগুলোকে মেঘলার বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার একটি সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বন বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে। অন্যথায়, সব প্রাণীই বন বিভাগ গ্রহণ করবে।

হস্তান্তরের পর প্রাণীগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “অসুস্থ প্রাণীগুলোকে সরাসরি সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তারা অন্য প্রাণীকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই প্রথমে এদের অন্যত্র চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। সুস্থ হওয়ার পর তাদের স্থায়ী আবাসস্থলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এই হস্তান্তরের মাধ্যমে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের অসুস্থ ও অবহেলিত বন্যপ্রাণীগুলো উন্নত চিকিৎসা এবং উপযুক্ত পরিবেশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠকপ্রিয়