দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করলো সি ট্রাক। শুক্রবার সকালে উদ্বোধনী যাত্রার মধ্য দিয়ে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সাথে জেলা সদরের নৌ যোগাযোগে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। একই সাথে মহেশখালী ঘাটে স্থাপন করা হয়েছে নতুন পন্টুন, যা যাত্রী ও মালামাল ওঠানামায় সুবিধা যোগ করবে।
উদ্বোধনী যাত্রায় সি ট্রাকটি মাত্র ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে মহেশখালী জেটিতে পৌঁছালে স্থানীয়দের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দ্বীপের বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির ফসল হিসেবে দেখছেন। মহেশখালীর সাথে কক্সবাজারের ১০ কিলোমিটার সমুদ্রপথে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা চালুর দাবি ছিল বহুদিনের। পূর্বে এই রুটে স্পিডবোটই ছিল প্রধান ভরসা, তবে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটায় তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “স্পিডবোটে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পেতাম। দুর্ঘটনা এড়াতে সি ট্রাক চালুর কোনো বিকল্প ছিল না। এটি চালু হওয়ায় আমরা এখন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারব।”
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (প্রশাসন) একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, “আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সি ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। এই সি ট্রাকে একসাথে ৩০০ জন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব।” তিনি আরও জানান, শিগগিরই এই সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, “প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে সি ট্রাক মহেশখালী জেটিতে ভিড়েছে। দ্বীপের মানুষের এই আনন্দ দেখে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সবাই একসাথে কাজ করব।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন বলেন, “কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে সি ট্রাক চালু করা ছিল আমাদের দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। অবশেষে সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। এর ফলে দ্বীপের মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে।”
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৫ এপ্রিল নৌ পরিবহন উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এই রুটে সি ট্রাক সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগ দ্বীপবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।