সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

খাগড়াছড়ির বাদুড়গুহা: অ্যাডভেঞ্চার আর গা ছমছমে অনুভূতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উঁচু-নিচু পাহাড় আর সবুজ অরণ্যের বুক চিরে ১৭ কিলোমিটার গেলেই দেখা মিলবে এক প্রাকৃতিক বিস্ময়ের – বাদুড়গুহা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে দূরে রথীচন্দ্র কারবারিপাড়া এলাকায় এর অবস্থান। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী একে ডাকে ‘তকবাক হাকর’ নামে, যার অর্থ বাদুড়গুহা। তবে কারো কারো কাছে এটি ‘দেবতার গুহা’ নামেও পরিচিত।

গুহার প্রবেশপথ কিছুটা দুর্গম। দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের আটমাইল এলাকা থেকে প্রায় আধঘণ্টার পথ পেরিয়ে রথীচন্দ্র কারবারিপাড়ায় পৌঁছাতে হয়। এরপর কাঁচা মাটির পথ আর পাহাড় বেয়ে প্রায় ৫০০ ফুট নিচে নামলেই চোখে পড়বে কালো পাথরের ফাঁক গলে তৈরি হওয়া গুহামুখ। পাহাড় ভেদ করে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই গুহার ভেতরের ঘুটঘুটে অন্ধকার আর শীতল পরিবেশ মনে করিয়ে দেয় কোনো অচিন রাজ্যের কথা।

প্রায় ৩০-৩৫ ফুট উঁচু এবং ১৬৫ ফুটের মতো দীর্ঘ এই গুহার প্রস্থ জায়গাভেদে ৪ থেকে ৫ ফুট। ভেতরে প্রবেশ করতে হলে মশাল বা টর্চলাইটের আলোই একমাত্র ভরসা। গুহার ভেতরে হাজারো বাদুড়ের বাস। ছাদের দিকে তাকালে মনে হবে যেন কোনো নিপুণ শিল্পী পাথরে খোদাই করে কারুকাজ করেছেন। পুরো গুহা ঘুরে দেখতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য ঘনশ্যাম ত্রিপুরা জানান, “এই গুহা কবে সৃষ্টি হয়েছে, তা কেউ বলতে পারে না। এলাকার লোকজন মনে করেন দেবতারা এটি তৈরি করেছেন। অনেকে এখনো এখানে পূজা দেন।”

গুহার পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় ঝরনা, যা বর্ষাকালে পূর্ণ রূপে দেখা যায়। গুহা থেকে বেরিয়ে এলে চোখে পড়বে স্বচ্ছ পানির জলাধার বা ‘খুম’। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির স্রোত এখানে শীতল এক পরিবেশ তৈরি করে।

এখানে ঘুরতে আসা পর্যটক আকতার হোসেন বলেন, “গুহাটি প্রাকৃতিক। এখানকার রোমাঞ্চ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি মুগ্ধ হয়েছি। স্থানীয়দের ব্যবহারও খুব ভালো।”

ভ্রমণ ও সতর্কতা:

বাদুড়গুহায় যাওয়ার পথটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর। উঁচু-নিচু পাহাড় আর ঝিরিপথ পেরিয়ে গুহায় পৌঁছাতে হয়। তাই শারীরিক সক্ষমতা জরুরি। বর্ষাকালে ঝিরিপথ ও পাহাড়ের রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

ভ্রমণকারীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া উচিত। সঙ্গে অবশ্যই টর্চলাইট, হাঁটার উপযোগী জুতা, লাঠি, পর্যাপ্ত পানি, শুকনা খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও অতিরিক্ত কাপড় রাখা প্রয়োজন। স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিলে ভ্রমণ সহজ ও নিরাপদ হয়।

এখানে এলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আবশ্যক। ছবি তোলার আগে অনুমতি নেওয়া এবং উচ্চস্বরে কথা বলা বা গান বাজানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়। প্রকৃতির এই নির্জন পরিবেশে শান্ত থাকা ও স্থানীয়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করাই কাম্য।

পাঠকপ্রিয়